জলপাইগুড়িতে সার্কিট বেঞ্চের স্থায়ী ভবনের জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধন
জলপাইগুড়ি, ১৭ জানুয়ারি (হি. স.): দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে জলপাইগুড়িতে কলকাতা হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চের স্থায়ী ভবনের জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধন করা হলো। এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের ফলে উত্তরবঙ্গের মানুষের ন্যায়বিচারের জন্য আর বারবার কলকাতায় ছুটে যা
জলপাইগুড়িতে সার্কিট বেঞ্চের স্থায়ী ভবনের জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধন


জলপাইগুড়ি, ১৭ জানুয়ারি (হি. স.): দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে জলপাইগুড়িতে কলকাতা হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চের স্থায়ী ভবনের জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধন করা হলো। এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের ফলে উত্তরবঙ্গের মানুষের ন্যায়বিচারের জন্য আর বারবার কলকাতায় ছুটে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না।

অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত এই স্থায়ী ভবনের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দেশ ও রাজ্যের একাধিক বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা ভার্চুয়াল এবং প্রত্যক্ষভাবে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হন।

এই স্থায়ী বেঞ্চ চালু হওয়ার ফলে জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার এবং উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের হাজার হাজার বিচারপ্রার্থীর দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান হলো।

২০১২ সালে জলপাইগুড়ি স্পোর্টস কমপ্লেক্স ময়দানে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই সার্কিট বেঞ্চের স্থায়ী কাঠামোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল। পরবর্তীকালে ২০১৯ সালে জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর অস্থায়ী কাঠামো থেকে সার্কিট বেঞ্চের কাজ শুরু হয়। একই বছর পাহাড়পুর এলাকায় স্থায়ী ভবন নির্মাণের কাজও শুরু হয়েছিল।

৩১ডি জাতীয় সড়কের ধারে পাহাড়পুর অঞ্চলে প্রায় ৪০ একর জমির ওপর এই বিশাল ও আধুনিক চত্বরটি তৈরি করা হয়েছে সার্কিট বেঞ্চের মূল ভবনটি পাঁচতলা। এতে মোট ১৩টি আদালত কক্ষের পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে ৫টি ডিভিশন বেঞ্চ এবং ৭টি সিঙ্গেল বেঞ্চ। বর্তমানে প্রধান বিচারপতির কোর্টসহ ৫টি আদালত কক্ষের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বিচারপতিদের জন্য ১০টি বাংলো তৈরি করা হয়েছে, যার মধ্যে তিনটির কাজ প্রায় শেষ। কর্মীদের জন্য ৮০টি ফ্ল্যাট সম্বলিত সাতটি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। আইনজীবীদের জন্য আলাদা লাইব্রেরি, ডিজিটাল ডেটা সেন্টার এবং মহিলা আইনজীবীদের জন্য পৃথক বসার ঘরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আদালত চত্বরে প্রবেশের জন্য ৭টি দরজা এবং মূল সড়ক থেকে চারটি গেট তৈরি করা হয়েছে। নিরাপত্তার খাতিরে এখানে একটি পৃথক থানা এবং পুলিশ ব্যারাকও থাকবে। এছাড়াও সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে চত্বরের ভেতরেই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শাখা, এটিএম এবং পোস্ট অফিস স্থাপন করা হবে।

জলপাইগুড়িতে এই স্থায়ী সার্কিট বেঞ্চের উদ্বোধন উত্তরবঙ্গের বিচার প্রক্রিয়ায় গতি আনবে বলে মনে করা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ যেমন দ্রুত এবং সুলভে বিচার পাবেন, তেমনই স্থানীয় আইনজীবিদের দীর্ঘদিনের দাবিও পূরণ হলো।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande