
আগরতলা, ১৭ জানুয়ারি (হি.স.) : জাতি, জনজাতি ও সংখ্যালঘু সহ সকল মানুষের ঐক্যই ত্রিপুরার সামগ্রিক উন্নয়নের মূল ভিত্তি। কেবলমাত্র একটি জাতি বা জনজাতির উন্নয়ন ঘটিয়ে কখনোই রাজ্য বা দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। বিভাজনের রাজনীতির মাধ্যমে জনজাতিদের বিভ্রান্ত করলে তা উন্নয়নের পরিপন্থী হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাবধারা ও নীতি অনুসরণ করে নতুন ভারত গঠনে সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে। রাজ্যের উন্নয়ন ও সুশাসনের জন্য প্রয়োজন প্রকৃত সহযোগিতা—এমন মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা।
শনিবার মোহনপুর মহকুমার মধুচৌধুরী পাড়া উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবনির্মিত দ্বিতল ভবনের দ্বারোদঘাটন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ভার্চুয়ালি তারাপুর, গোপালনগর ও বেড়িমুড়া উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন করেন। বেড়িমুড়া বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৮ কোটি ৬৭ লক্ষ টাকা এবং বাকি তিনটি বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণে প্রতিটিতে ৩ কোটি ৯৯ লক্ষ টাকা করে ব্যয় হয়েছে।
অনুষ্ঠানে রাজ্যের উন্নয়নমূলক কর্মসূচি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার উন্নয়নের প্রতীক। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ জরুরি পরিষেবায় পূর্ববর্তী সরকারগুলির অবহেলার কারণে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, তা পূরণে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। গত সাত বছরে রাজ্যের উন্নয়ন দৃশ্যমান হয়েছে। চলতি বাজেটে পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য ৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং এই অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় হচ্ছে কিনা তা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, প্রকৃত শিক্ষা মানুষকে মানবিক করে তোলে। ছাত্রছাত্রীদের স্বামী বিবেকানন্দ ও ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণের আদর্শে অনুপ্রাণিত হওয়া প্রয়োজন। শিক্ষকরা মানুষ গড়ার কারিগর—তাই সময়োপযোগী জ্ঞান ও দক্ষতায় নিজেদের সমৃদ্ধ করা তাঁদের দায়িত্ব। তিনি যুবসমাজকে দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে মানবসম্পদে পরিণত করার উপর জোর দেন এবং জানান, রাজ্যে ইতিমধ্যেই ১২টি একলব্য বিদ্যালয় চালু হয়েছে, শীঘ্রই আরও ৯টি চালু হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতি বিদ্যুৎমন্ত্রী রতনলাল নাথ বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এসেছে। ছাত্রছাত্রীদের একবিংশ শতকের উপযোগী করে তুলতে বৃত্তিমূলক ও আধুনিক শিক্ষার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয় শিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে নবনির্মিত ভবনগুলির উপর একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ