
আগরতলা, ১৭ জানুয়ারি (হি.স.) : আমতলি থানাধীন অশ্বিনী মার্কেট এলাকায় পুলিশের অভিযানে চুরি যাওয়া দুটি স্কুটি ও একটি বাইক উদ্ধার হয়েছে। এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে কুখ্যাত বাইক চোর তথা সমাজদ্রোহী কমল দে-কে। শুক্রবার রাতে গোপন সূত্রের ভিত্তিতে আমতলি থানার পুলিশ কমল দে-এর বাড়িতে হানা দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অশ্বিনী মার্কেট এলাকার বাসিন্দা কমল দে কোনও স্থায়ী কাজকর্ম না করলেও দামি জামাকাপড় পরা, একের পর এক নতুন মোবাইল ব্যবহার এবং দামী দ্বিচক্রযানে ঘোরাফেরা করতেন। তার এই অস্বাভাবিক জীবনযাপন এলাকাবাসীর মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি করে। শেষ পর্যন্ত সেই সন্দেহই বাস্তবে রূপ নেয়।
শুক্রবার রাতে আচমকা পুলিশের দল কমল দে-এর বাড়ি ঘিরে তল্লাশি চালায়। তল্লাশিকালে বাড়ির পেছনের একটি ঘর থেকে দুটি স্কুটি ও একটি বাইক উদ্ধার করা হয়। এরপরই কমল দে-কে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এই অভিযানের সূত্রপাত হয় একটি স্কুটি চুরির অভিযোগ থেকে। আগরতলা বইমেলা চলাকালীন গত ১১ জানুয়ারি হাঁপানিয়া আন্তর্জাতিক মেলা প্রাঙ্গণের উল্টোদিক থেকে সুকান্ত পাল নামে এক ব্যক্তির স্কুটি চুরি যায়। স্কুটিটির নম্বর টিআর০১এই-৭৭২৭। দীর্ঘদিন খোঁজাখুঁজির পর ব্যর্থ হয়ে শুক্রবার সুকান্ত পাল আমতলি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ পেয়ে আমতলি থানার পুলিশ একটি মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে। তদন্ত চলাকালীন পুলিশের কাছে কমল দে-এর সন্দেহজনক কার্যকলাপের খবর আসে। এরপরই তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে চুরি যাওয়া যানবাহনগুলি উদ্ধার করা হয়।
শনিবার আমতলি থানার এসডিপিও পারমিতা পাণ্ডে জানান, উদ্ধার হওয়া যানবাহনগুলির মধ্যে একটি সুকান্ত পালের স্কুটি। বাকি স্কুটি ও বাইকটির কোনও নম্বর প্লেট ছিল না। তিনি আরও জানান, ধৃত অভিযুক্ত কমল দে-কে পাঁচ দিনের পুলিশ রিমাণ্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তদন্ত শেষ হলে উদ্ধার হওয়া যানবাহনগুলি প্রকৃত মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
এসডিপিও পারমিতা পাণ্ডে আরও জানান, কমল দে-এর বিরুদ্ধে আগেও একাধিক চুরির অভিযোগ রয়েছে এবং সে অসামাজিক কার্যকলাপের সঙ্গেও যুক্ত বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ