
ধর্মনগর(ত্রিপুরা), ১৮ জানুয়ারি (হি.স.) : ‘বন্দে মাতরম’-এর দেড়শো বছর, ভারতের সংবিধানের ৭৫ বছর পূর্তি এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) শতবর্ষ—এই তিন ঐতিহাসিক উপলক্ষ্যে গোটা দেশের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে ত্রিপুরার বিভিন্ন জেলায় আয়োজিত হচ্ছে হিন্দু সম্মেলন। এরই অঙ্গ হিসেবে রবিবার উত্তর ত্রিপুরা জেলার তিলথৈ, কালাছড়া ও ধর্মনগরে একযোগে অনুষ্ঠিত হয় বিশাল হিন্দু সম্মেলন।
উত্তর জেলার তিলথৈ এলাকার রূপচরণ দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত সম্মেলনের সূচনা হয় সকাল এগারোটায় ভারত মাতার চরণে পুষ্পার্ঘ অর্পণ ও যজ্ঞের মাধ্যমে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবিভিপি ত্রিপুরা প্রান্ত সংগঠন মন্ত্রী তুষার ভৌমিক-সহ একাধিক সাধু-সন্ত। সম্মেলনে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন জাতি ও জনজাতির লোকসংস্কৃতি পরিবেশিত হয়, যা উপস্থিত দর্শকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে।
অন্যদিকে ধর্মনগর শহরের বিবিআই স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হিন্দু সম্মেলনে ধর্মনগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ র্যালির মাধ্যমে অংশগ্রহণ করেন। সম্মিলিতভাবে আয়োজিত এই সম্মেলনে ধর্মনগরের সর্বস্তরের হিন্দু সমাজের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।
ধর্মনগরের সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সম্মিলিত হিন্দু সমাজ কমিটির সভাপতি তথা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রাণকৃষ্ণ পাল। উপস্থিত ছিলেন কমিটির সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ সেন, যিনি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রাক্তন জেলা কার্যবাহক। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন গৌড়ীয় মঠের ভক্তি প্রসাদ কেশব মহারাজ।
সম্মেলনের মুখ্য বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন অবসরপ্রাপ্ত কৃষি দফতরের কর্মচারী তথা রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রান্ত কার্যবাহ সেনাপতি রায়। পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন আরএসএস-এর উত্তর জেলা কার্যবাহক বিজয় ভট্টাচার্য।
বিভিন্ন বক্তা তাঁদের বক্তব্যে হিন্দু সমাজের ঐক্য, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং জাতীয় চেতনার গুরুত্বের উপর আলোকপাত করেন। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ধর্মনগর শহরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত শিশুরা রাম, লক্ষ্মণ, সীতা ও গৌরীর সাজে সজ্জিত হয়ে সম্মেলনে অংশ নেয়, যা সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী দিনগুলিতেও সমাজকে ঐক্যবদ্ধ ও সাংস্কৃতিকভাবে সচেতন করার লক্ষ্যে এই ধরনের হিন্দু সম্মেলনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ