রুপাইছড়িতে ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাঙ্কে ঋণ জালিয়াতি, সর্বস্বান্ত হতদরিদ্র মহিলা
সাব্রুম (ত্রিপুরা), ১৯ জানুয়ারি (হি.স.) : দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার সাব্রুম মহকুমার অন্তর্গত রুপাইছড়ি এলাকায় গ্রামীণ ব্যাঙ্কে ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় শুধু একটি পরিবার নয়, গোটা ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও দায়িত্ববোধ নি
ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাঙ্ক


সাব্রুম (ত্রিপুরা), ১৯ জানুয়ারি (হি.স.) : দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার সাব্রুম মহকুমার অন্তর্গত রুপাইছড়ি এলাকায় গ্রামীণ ব্যাঙ্কে ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় শুধু একটি পরিবার নয়, গোটা ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, রুপাইছড়ি ব্লকের বিষ্ণুপুর টিটিএএডিসি ভিলেজের বৃন্দা কিশোর পাড়ার হতদরিদ্র মহিলা পঞ্চশালক্ষ্মী ত্রিপুরার গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র কৌশলে হাতিয়ে নেয় একই এলাকার যুবক ফরেন ত্রিপুরা। সেই নথিপত্র ব্যবহার করেই সে ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাঙ্ক থেকে নিজের নামে ৫০ হাজার টাকা ঋণ আদায় করে। ঋণের নথিতে পঞ্চশালক্ষ্মী ত্রিপুরার নাম ব্যবহার করা হলেও সেখানে স্বাক্ষর করেন জিতেন্দ্র ত্রিপুরা নামে দালাল চক্রের আরেক সদস্য।

প্রথম মাসে সামান্য কিছু টাকা পরিশোধের পর ফরেন ত্রিপুরা এলাকা ছেড়ে উধাও হয়ে যায়। এরপর কোনও রকম যাচাই-বাছাই না করেই ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ পঞ্চশালক্ষ্মী ত্রিপুরার অ্যাকাউন্ট থেকে নিয়মিত কিস্তির টাকা কেটে নিতে শুরু করে বলে অভিযোগ।

সম্প্রতি সরকারি সুযোগ-সুবিধার টাকা তুলতে ব্যাঙ্কে এসে পঞ্চশালক্ষ্মী ত্রিপুরা জানতে পারেন, তাঁর অ্যাকাউন্টে এক টাকাও অবশিষ্ট নেই। কান্নায় ভেঙে পড়ে অসহায় ওই মহিলা প্রশ্ন তোলেন, “আমি কিছুই জানতাম না, তবু কেন শাস্তি আমার?”

এ বিষয়ে বর্তমান ব্যাঙ্ক ম্যানেজার প্রাণেশ পাল জানান, ঋণটি পাশ হয়েছিল পূর্বতন ম্যানেজার নরেশ ত্রিপুরার সময়ে। বর্তমানে নরেশ ত্রিপুরা আগরতলার একটি শাখায় কর্মরত। তিনি পুরো ঘটনাটিকে ‘নেহাতই একটি মিসটেক’ বলে এড়িয়ে যান। তবে জনমানসে প্রশ্ন উঠছে—একটি ‘মিসটেক’-এর খেসারত কেন দেবে এক হতদরিদ্র পরিবার?

সূত্রের খবর, ওই সময়কালে একইভাবে আরও একাধিক ঋণ জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে, যা একটি সুসংগঠিত দালাল চক্রের সক্রিয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। জনগণের জোরালো দাবি, অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দালাল চক্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক কর্তাদের ভূমিকা প্রকাশ্যে আনা হোক। পাশাপাশি দোষীদের কঠোর শাস্তি এবং পঞ্চশালক্ষ্মী ত্রিপুরাসহ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির আর্থিক ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার দাবিও উঠেছে।

স্থানীয়দের মতে, দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে এই ধরনের জালিয়াতি একটি ঘটনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা গরিব মানুষের উপর চালানো এক নীরব ও নির্মম লুটের রূপ নেবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande