
ধর্মনগর (ত্রিপুরা), ২ জানুয়ারি (হি.স.) : গ্রামীণ সংস্কৃতি ও লোকসংস্কৃতির বিকাশে গ্রামীণ মেলাগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে মন্তব্য করলেন সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দফতরের মন্ত্রী টিংকু রায়। শুক্রবার উত্তর ত্রিপুরা জেলার কদমতলা ব্লকের বড়গোল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পাঁচ দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক মেলা ও প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন তিনি। আরাধনা সাংস্কৃতিক সংস্থা ও তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের যৌথ উদ্যোগে এ বছরের মেলা আয়োজন করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী টিংকু রায় বলেন, আগে আরাধনা সাংস্কৃতিক সংস্থার উদ্যোগেই এই মেলার আয়োজন হত। গত তিন বছর ধরে মেলাটি সরকারিভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মেলার মাধ্যমে একদিকে যেমন গ্রামীণ সংস্কৃতির বিকাশ ঘটছে, অন্যদিকে স্বসহায়ক দলের সদস্যাদের নিজেদের উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির সুযোগ তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দপ্তরের প্রদর্শনী স্টলের মাধ্যমে মানুষকে নানা বিষয়ে সচেতন করা হবে। সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দফতরের স্টলে বাল্যবিবাহ রোধ, কিশোরী মেয়েদের সচেতনতা, মা ও শিশুর স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ে তথ্য তুলে ধরা হবে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, নেশামুক্ত সমাজ গড়তে প্রত্যেকের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। আলোচনা নয়, বরং বাস্তবে সংকল্প গ্রহণ করলেই যুব সমাজকে নেশার কবল থেকে রক্ষা করা সম্ভব। তিনি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির গুরুত্ব উল্লেখ করে বলেন, “গাছ লাগানোর পাশাপাশি গাছকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্বও আমাদের।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘এক পেড় মা কে নাম’ উদ্যোগ বৃক্ষরোপণে নতুন উদ্দীপনা যোগাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উত্তর ত্রিপুরা জিলা পরিষদের সভাধিপতি অপর্ণা নাথ, কদমতলা পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান মিহির রঞ্জন নাথ, ভাইস চেয়ারম্যান বিদ্যাভূষণ দাস, কদমতলা ব্লকের বিডিও সঞ্জীব দেবনাথ, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সহ-অধিকর্তা রিপন চাকমা, বড়গোল গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান প্রদীপ নাথসহ অন্যান্য বিশিষ্টজনেরা।
পাঁচ দিনব্যাপী এই মেলায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছাড়াও সেমিনার, কুইজ, কবিতা ও সাহিত্য পাঠের আসর, সংগীত ও নৃত্য প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ