কারিগাঁও সংঘর্ষ, কোকরাঝাড়ে জারি ১৬৩, স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে সকলের সহযোগিতা কামনা মুখ্যমন্ত্রীর
কোকরাঝাড় (অসম), ২০ জানুয়ারি (হি.স.) : কারিগাঁও সংঘর্ষের পর কোকরাঝাড় জেলা জুড়ে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, ২০২৩-এর ধারা ১৬৩ জারি করেছেন ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট। কোকরাঝাড়ের পর ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করা হয়েছে সংলগ্ন চিরাং জেলায়ও। এদিকে জেলায়
চলছে পুলিশি টহল


কোকরাঝাড় (অসম), ২০ জানুয়ারি (হি.স.) : কারিগাঁও সংঘর্ষের পর কোকরাঝাড় জেলা জুড়ে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, ২০২৩-এর ধারা ১৬৩ জারি করেছেন ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট। কোকরাঝাড়ের পর ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করা হয়েছে সংলগ্ন চিরাং জেলায়ও। এদিকে জেলায় শান্তি ও স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে বিবদমান দুই সম্প্ৰদায়ের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেছেন সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অবস্থানরত অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা।

আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে কারিগাঁওয়ে সংঘটিত গোষ্ঠী সংঘর্ষের পর সৃষ্ট উত্তেজনার প্রেক্ষিতে কোকরাঝাড় জেলা জুড়ে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, ২০২৩-র ধারা ১৬৩ বলবৎ করে বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ জারি করেছেন ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট পঙ্কজ চক্রবর্তী। জেলাশাসক পঙ্কজ চক্রবর্তীর জারিকৃত এক আদেশে বলা হয়েছে, জেলার বিভিন্ন সংবেদনশীল এলাকায় সমাজের একাধিক অংশের মধ্যে চাপা উত্তেজনা ও দুই জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে হিংসাত্মক কার্যকলাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

আদেশে বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতি জনশান্তির জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করছে। এর ফলে আরও গোষ্ঠী সংঘর্ষ ও সাম্প্রদায়িক অশান্তি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। জেলা প্রশাসনের আশঙ্কা, দুষ্কৃতী ও সমাজবিরোধী শক্তি পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে মানুষকে উসকানি দিতে পারে এবং বনধ, ধরনা, অবস্থান, রাস্তা ও জাতীয় সড়ক অবরোধের মতো আন্দোলনমূলক কর্মসূচি সংগঠিত করতে পারে।

জেলায় অতীতে শান্তিভঙ্গের ঘটনায় প্রাণহানির উল্লেখ করে জেলা শাসক বলেন, জনশান্তি রক্ষা ও সরকারি সম্পত্তি ও দফতর সুরক্ষার জন্য তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী, কোকরাঝাড় জেলার যে কোনও জনসমাগম এলাকায় চারজনের বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জেলাশাসকের পূর্বলিখিত অনুমতি ছাড়া সমস্ত ধরনের মিছিল, শোভাযাত্রা, সমাবেশ, বিক্ষোভ, পদযাত্রা, ঘেরাও, অবরোধ ও অবস্থান কর্মসূচি নিষিদ্ধ থাকবে। সরকারি দফতরের আশপাশে পিকেটিং, স্লোগান দেওয়া এবং ব্যানার, প্ল্যাকার্ড বা লাউডস্পিকার ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

লাঠি, ডাণ্ডা, ধারালো অস্ত্র, দাহ্য বা বিস্ফোরক পদার্থ এবং যে কোনও বস্তু যা আঘাত বা ক্ষতির কারণ হতে পারে, বহন করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি কর্মীদের কর্তব্য পালনে বাধা দেওয়া, অনুমতি ছাড়া মেলা বা হাটের আয়োজন, মোটর সাইকেলে পিলিয়ন রাইডিং, যানবাহনে কালো কাচ ব্যবহার, অনুমতি ছাড়া বহিরাঙ্গন মাইক ব্যবহার এবং মশাল মিছিলও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি, বিকৃতি বা ভাঙচুরকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

তবে বৈধ পরিচয়পত্র সহ দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী, এগজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, সেনাবাহিনী, কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী এবং জরুরি বা দুর্যোগ পরিষেবার কর্মীরা এই আদেশের আওতার বাইরে থাকবেন।

নিত্যপ্রয়োজনীয় চলাচলের ক্ষেত্রে প্রবীণ নাগরিক, মহিলা ও ১২ বছরের কম বয়সি শিশুদের ছাড় দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জেলাশাসকের লিখিত অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাও এই নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি পাবেন।

এই নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। আদেশ লঙ্ঘন করলে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩-এর ধারা ২২৩ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আইনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসন সতর্ক করেছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত বা অসন্তুষ্ট ব্যক্তিরা আদেশের সংশোধন, শিথিলকরণ বা প্রত্যাহারের জন্য লিখিতভাবে জেলা শাসকের কাছে আবেদন করতে পারবেন।

এদিকে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে চলমান ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম-এর বার্ষিক সম্মেলনে অবস্থানকারী অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা তাঁর এক্স হ্যান্ডলে শান্তির আহ্বান জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর আর্জি, ‘আমি সমাজের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করছি। যত দ্রুত সম্ভব শান্তি ও স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে সকলকে সরকারের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানাই।’

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande