
বক্সনগর (ত্রিপুরা), ২০ জানুয়ারি (হি.স.) : নেশামুক্ত ত্রিপুরা গড়ার লক্ষ্যে মঙ্গলবার সিপাহীজলা জেলার বক্সনগর বিধানসভা এলাকার যাত্রাপুর থানার অন্তর্গত জঙ্গলাঞ্চলে বড়সড় গাঁজা বিরোধী অভিযান চালাল পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী। যৌথ অভিযানে প্রায় ৪ লক্ষাধিক ফলন্ত গাঁজা গাছ কেটে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করে দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার সকাল ১১টা নাগাদ অভিযান শুরু হয়। তার আগে সকাল ৮টার পর থেকেই সোনামুড়া মহকুমার বিভিন্ন এলাকা ও সিপাহীজলা জেলা থেকে বিপুল সংখ্যক জওয়ান যাত্রাপুর থানায় এসে জড়ো হন। মোট ৩৭২ জন জওয়ানের উপস্থিতিতে যাত্রাপুর থানা চত্বর ও কাঁঠালিয়া বাজার এলাকা কার্যত নিরাপত্তা বাহিনীর সমাবেশস্থলে পরিণত হয়। এই দৃশ্য দেখতে এলাকায় কৌতূহলী মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
ঠিক ১১টায় জওয়ানরা চারটি দলে বিভক্ত হয়ে অভিযানে নামেন। থানা থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে পূর্বদিকে ওয়ান-ওয়ে সড়ক ধরে এগিয়ে যাওয়ার সময় গাঁজা চাষিরা সরাসরি বাধা না দিলেও রাস্তার ওপর গাছ কেটে ফেলে অভিযান ব্যাহত করার চেষ্টা করে। তবে জওয়ানরা জেসিবি মেশিনের সাহায্যে দ্রুত রাস্তা পরিষ্কার করে চিরুনি তল্লাশি শুরু করেন।
পরবর্তীতে থলিবাড়ি টিটিএএডিসি ভিলেজ সংলগ্ন জঙ্গলাঞ্চলে পৌঁছে চারটি দল আলাদাভাবে গভীর জঙ্গলে ঢুকে ব্যাপক তল্লাশি চালায় এবং বিপুল পরিমাণ ফলন্ত গাঁজা গাছ কেটে পুড়িয়ে ধ্বংস করে দেয়।
এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন এসডিপিও শশীমোহন দেববর্মা ও সিপাহীজলা জেলার ডিসিডিআর। অভিযানে অংশ নেয় বিএসএফ-এর পাঁচটি কোম্পানি, টিএসআর-এর দুই ব্যাটালিয়ন এবং যাত্রাপুর থানার ওসি-এর নেতৃত্বে থানার অন্যান্য পুলিশ অফিসার ও কনস্টেবলরা। মহিলা-পুরুষ মিলিয়ে মোট ৩৭২ জন জওয়ান প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে এই অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানের ফলে গাঁজা চাষিদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কারণ আর মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই গাঁজা কেটে তা ঘরে তোলার প্রস্তুতি চলছিল বলে জানা গেছে।
এ প্রসঙ্গে এসডিপিও শশীমোহন দেববর্মা বলেন, “নেশামুক্ত ত্রিপুরা গড়ার লক্ষ্যে এই ধরনের অভিযান আগামী দিনেও ধারাবাহিকভাবে চালানো হবে। প্রয়োজনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ