
বিলোনিয়া (ত্রিপুরা), ২০ জানুয়ারি (হি.স.) : সমাজের দীর্ঘদিনের কুসংস্কার বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে এক সাহসী ও অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত স্থাপন করল জনজাতি পরিবারের নাবালিকা কন্যা নীরলতা ত্রিপুরা। নিজের বিয়ে নিজেই ভেঙে দিয়ে আজ সে শুধু এলাকায় নয়, রাজ্যজুড়েই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার বিলোনিয়া মহকুমার রাজনগর ব্লকের অন্তর্গত সিদ্ধিনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দা ষোড়শী নীরলতা বাগানবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। পরিবার ও সমাজের চাপ উপেক্ষা করে সে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় এবং নিজের ভবিষ্যৎ রক্ষায় দৃঢ় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
নীরলতার এই সাহসী পদক্ষেপকে কুর্নিশ জানাতে মঙ্গলবার আগরতলা থেকে তাঁর বাড়িতে ছুটে যান শিশু সুরক্ষা অধিকার কমিশনের চেয়ারপার্সন জয়ন্তী দেববর্মা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কমিশনের সদস্যা চামেলী সাহা, মনিকা দেববর্মা এবং সদস্য গৌতম শীল। এদিন তাঁদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সিদ্ধিনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান গৌতম নাথ।
নীরলতার বাড়িতে গিয়ে কমিশনের প্রতিনিধিরা তাঁর বাবা সুরেশ ত্রিপুরা সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। নীরলতাকে সম্বর্ধনা জানানোর পাশাপাশি তাঁর পড়াশোনা, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ সংক্রান্ত যে কোনও সমস্যায় সর্বতোভাবে পাশে থাকার আশ্বাস দেন তাঁরা।
এই প্রসঙ্গে শিশু সুরক্ষা অধিকার কমিশনের চেয়ারপার্সন জয়ন্তী দেববর্মা বলেন, “এই প্রথম কোনও জনজাতি পরিবারের নাবালিকা কন্যা নিজে থেকে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে এমন সাহসী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। নীরলতা আজ সমাজের অন্যান্য মেয়েদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা।” তিনি আরও বলেন, সমাজকে বাল্যবিবাহ মুক্ত করতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে। বাল্যবিবাহের ফলে যাতে কোনও শিশুর জীবন অকালে ঝরে না যায়, সে বিষয়ে সকলকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সরকারের কঠোর আইনের কথাও তুলে ধরেন।
নীরলতার সঙ্গে সাক্ষাতের পর কমিশনের চেয়ারপার্সন ও সদস্যরা বাগানবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে যান। সেখানে বালিকা মঞ্চের দিদিমণি ও অন্যান্য শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করেন তাঁরা। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলে বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে সচেতন করেন এবং আত্মনির্ভর ও সাহসী হয়ে ওঠার বার্তা দেন।
নীরলতার এই সাহসী পদক্ষেপ আজ সমাজে বাল্যবিবাহ বিরোধী আন্দোলনে নতুন করে আশা ও প্রেরণা জোগাচ্ছে বলে মত প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ