
নবদ্বীপ, ২৩ জানুয়ারি (হি. স.) : প্রতি বছরের মতো এ বছরও ২৩ জানুয়ারি, দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মবার্ষিকী তথা ‘পরাক্রম দিবস’। এই বিশেষ দিনটিকে কেন্দ্র করে নদিয়ার নবদ্বীপের রাধারমণ সেবাশ্রমে প্রতিবারই ধরা পড়ে ইতিহাসের এক অনন্য ছোঁয়া। কারণ, এই আশ্রমের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর এক গভীর আত্মিক সম্পর্ক ও অমলিন স্মৃতি।ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, স্বাধীনতা আন্দোলনের উত্তাল সময়ে একাধিকবার নবদ্বীপে এসেছিলেন নেতাজি। তার মধ্যে বড়ালঘাট এলাকার এই রাধারমণ সেবাশ্রম ছিল তাঁর অন্যতম প্রিয় স্থান। সে সময় এই আশ্রম শুধু ধর্মীয় কেন্দ্র নয়, বরং জনসেবার এক প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। এমনকি এখানে একটি হাসপাতালও পরিচালিত হতো, যা তৎকালীন সময়ে নবদ্বীপের স্বাস্থ্য পরিষেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।আশ্রমের এই সেবামূলক কর্মকাণ্ড নেতাজির বিশেষ নজর কেড়েছিল। তিনি স্বয়ং আশ্রমে এসে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁদের সেবাকর্মের ভূয়সী প্রশংসা করেন। জনশ্রুতি রয়েছে, আশ্রম ও নবদ্বীপ শহর সম্পর্কে তিনি তাঁর অনুভূতি লিখে রেখেছিলেন।আজকের দিনেও আশ্রম প্রাঙ্গণে নেতাজির পূর্ণাবয়ব মূর্তি এবং তাঁর লেখা সেই প্রশংসামূলক বর্ণনা সযত্নে সংরক্ষিত রয়েছে, যা ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল। প্রতি বছর ২৩ জানুয়ারি এই আশ্রমে নেতাজির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন থেকে শুরু করে বিশেষ স্মৃতিচারণ ও দেশপ্রেমমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নেতাজির বাণী পাঠ, শিক্ষামূলক আলোচনা, পাঠচক্র ও দেশাত্মবোধক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে সাহসিকতা ও সেবার আদর্শ ছড়িয়ে দেওয়া হয়।‘পরাক্রম দিবস’-এর এই তাৎপর্যপূর্ণ দিনে রাধারমণ সেবাশ্রম শুধু একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবেই নয়, বরং নবদ্বীপের বুকে নেতাজির স্মৃতিবাহী এক ঐতিহাসিক তীর্থক্ষেত্র হিসেবেই আত্মপ্রকাশ করে।
হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত