
কৈলাসহর (ত্রিপুরা), ২৩ জানুয়ারি (হি.স.) : সরকারি টেন্ডার সংক্রান্ত বিবাদকে কেন্দ্র করে শুক্রবার ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ঊনকোটি জেলার কৈলাসহর শহরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং চার রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কৈলাসহর থানার অন্তর্গত কাতাল দিঘির পাড় এলাকায় বিজেপি মণ্ডল সভাপতি প্রীতম ঘোষ একদল ক্ষুব্ধ ব্যক্তির হামলার শিকার হন। পাশাপাশি বিজেপি যুব মোর্চার সভাপতি অরূপ ধরের বাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ও একটি বাড়ি ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ।
সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি নির্দিষ্ট সরকারি টেন্ডারকে ঘিরে প্রীতম ঘোষ ও অরূপ ধরের অনুগামীদের মধ্যে বিবাদ চলছিল। শুক্রবার সেই বিবাদই সংঘর্ষের রূপ নেয়।
ঘটনার প্রসঙ্গে প্রীতম ঘোষ জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। তাঁর দাবি, তাঁকে জানানো হয়েছিল যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কয়েকজন যুবক এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, “আজ সরস্বতী পূজার মতো একটি শুভ দিনে পরিস্থিতি শান্ত করতে আমরা সেখানে গেলে আমাদের উপর হামলা চালানো হয়।”
ঘটনার খবর পেয়ে জেলার পুলিশ সুপার সুধনভিকা আর, এসডিপিও রাহুল এ এবং কৈলাসহর থানার ওসি তাপস মালাকার ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ, টিএসআর এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন করা হয়।
এসডিপিও রাহুল এ বলেন, “দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষের জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আমরা প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিয়েছি।” তিনি আরও বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত নয় এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করা হবে। উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে বলেও তিনি জানান।
পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এলাকায় বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ