
কলকাতা, ৭ জানুয়ারি (হি. স.) : পুরসভার কাজে সম্ভাব্য দুর্নীতির ছবি সামাজিক মাধ্যমে পেশ করে বিতর্কের মুখে পড়েছেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। অনেকের সমর্থনের পাশাপাশি ‘মিথ্যে খবর’ ছড়ানোর অভিযোগও এসেছে প্রতিক্রিয়ায়। বুধবার সকাল সওয়া ৮টা পর্যন্ত এই পোস্টে প্রতিক্রিয়া এসেছে ৮৭৪, শেয়ার হয়েছে ২৭০। রাতে সংখ্যাটা বেড়েছে প্রায় দেড়গুণ।
অগ্নিমিত্রা লিখেছেন, “চোখ কচলাবেন না, আপনি ঠিকই দেখছেন! বাঁকুড়া পৌরসভার ঠিক উল্টোদিকে তৈরি হচ্ছে এক 'ঐতিহাসিক' শৌচাগার। মাত্র দু-কামরার এই মহার্ঘ্য টয়লেট ব্লকের বাজেট শুনলে আপনার হার্ট অ্যাটাক হতে পারে—৬ লক্ষ ৫১ হাজার ৭৩৩ টাকা!
নানান বিষয়ে কেন্দ্রকে হিসেব কেন দিতে পারেনা, আর তার জন্য কেন্দ্র কেন টাকা পাঠায় না, তার একটা ছোট্ট উদাহরণ।
তৃণমূলী জমানায় দুটো পায়খানা ঘর বানাতে খরচ হয় সাড়ে ৬ লক্ষের বেশি! ভাবুন একবার, কত বড় মাপের 'খাদক' হলে তবেই এমন এস্টিমেট বানানো সম্ভব।
মাননীয়া, আপনার দলের নেতারা তো এবার মানুষের শৌচাগারটাও খেয়ে ফেলছে?
সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকা কি এভাবেই নেতাদের পকেটে কাটমানি হয়ে ঢুকবে?”
প্রতিক্রিয়ায় অগ্নিমিত্রার বক্তব্যের পক্ষে পার্থ দাস লিখেছেন, “আপনি সঠিক টা জানেন না? ওটি অত্যন্ত উন্নত মানের AC toilet hobe।”
রঞ্জিত দেবু লিখেছেন, “কাটমানি ধরে হিসাবটা রাখা হয়েছে। এটাও তো একটা খরচ, নাকি!” পলাশ বৈদ্য লিখেছেন, “প্রত্যেকটা সোলার লাইটে প্রায় 35000 টাকা বিল করছে,
বাপী দেবনাথ লিখেছেন, “তারপরও বলবে কেন্দ্র দেয় না।”
কল্যাণ রায় লিখেছেন, “এই রকম পাঁশকুড়া পৌরসভায় হয়েছে পুরাতন টয়লেট কে নির্মল মিশনের কিছু কাজ করিয়ে কত লক্ষ বিল করেছে শুধুমাত্র তদন্তের অপেক্ষায়। সব কাজেই দুর্নীতি হয়েছে। তদন্তে ধরা পড়বে। আমি পৌরসভার তিনটে জায়গার টয়লেটের কথা বলছি পাঁশকুড়া স্টেশন বাসস্ট্যান্ড। মুড়িপুকুর হাটের কাছে আর পাঁশকুড়া বাজার থানার কাছে যেতে। আরও আছে। কত টাকার কাজ সেটা তদন্ত করে পাওয়া যাবে।”
দেবযানী বোস লিখেছেন, “....তো ওদের অনেক দিনের পুরনো অভ্যেস! ২০১৫/১৬ সালে উত্তর বঙ্গের একটা গ্রামে গিয়ে শুনেছিলাম ওরা Swachh Bharat Mission এর অধীনে যে শৌচাগার তৈরির টাকা নেয় না। কারণ _ * প্রকল্পের অধীনে বরাদ্দ ১২ হাজার টাকা পেতে গেলে আগে দু থেকে তিন হাজার টাকা তোলামূলী ভাইদের ভোগ দিতে হয়, *তৈরির জিনিষ পত্র ভাইদের কাছে নিতে হয় আর সে গুলো এতোটাই নিম্ন মানের যে তৈরির ছ'মাস ও টেকে না!”
ইঙ্গিতের বিরোধিতাও করেছেন অনেকে। কৌশিক ঘোষ একটি ইঞ্জিনিয়ারিং নকশা দাখিল করে লিখেছেন, “দিদি, মিথ্যে news, fake news ছড়াবেন না plz.। ছবিতে দেওয়া QR code scan করে সত্যি যাচাই করবেন, নাকি এরকম fake news দেখবেন, আপনাদের ব্যাপার! এটা ৪ urinal এর project, ২ নয়। Final খরচ : ৫,৮২,১৪৭/-। QR স্ক্যান করুন সঠিক জানতে, আর গুজব এ কান না দিতে।”
ডঃ কাজী সৈয়দ উদ্দিন লিখেছেন, “বলছি দিদি স্টেশন এর বাইরে মোদিজির সেলফি জোন এর কাট আউট এর দাম এই বাথরুম এর বাজেট এর থেকে বেশী। সেটা নিয়ে কিছু বলুন!” জয়দীপ চক্রবর্তী লিখেছেন, “এক km রাস্তা ২৫০ কোটিতে তৈরি হচ্ছে। সঞ্জয় দাস লিখেছেন, “সবাই সমান, বিহারের ডবল ইঞ্জিন সরকার রোপওয়ে বানিয়ে ট্রায়ালের সময়েই শেষ! যে লঙ্কা যায়, সেই রাবণ হয়।”
সূরজ সাহা লিখেছেন, “দিদি আপনি এটা দেখে যদি অবাক হয়ে যান তাহলে আপনার দলের নেতারা মধ্যপ্রদেশে কী কী কান্ড ঘটিয়েছে একটু দেখে আসুন! স্কুলের থালা বাটি চামচ কিনেছে যার এক একটার দাম 800-900 টাকা, আর একটা নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত Cement বস্তার দাম 1 লক্ষ 92 হাজার টাকার প্রতি বস্তা।”
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / মৌসুমী সেনগুপ্ত