আরপিএফ-এর হাতে ধৃত ১৭ জন চোর এবং উদ্ধার প্রায় ২.২২ লক্ষ টাকার ১৭টি চুরির মোবাইল ফোন
গুয়াহাটি, ৭ জানুয়ারি (হি.স.) : উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের অধীন রেলওয়ে সুরক্ষা বাহিনী (আরপিএফ)-র অভিযানে ১৭ জন চোর গ্রেফতার এবং উদ্ধার হয়েছে প্রায় ২.২২ লক্ষ টাকার ১৭টি চুরির মোবাইল ফোনের হ্যান্ডস সেট। আজ বুধবার এক প্রেস বার্তায় এ খবর দিয়ে উত্তরপ
বিভিন্ন রেল স্টেশনে আরপিএফ-এর অপারেশন


গুয়াহাটি, ৭ জানুয়ারি (হি.স.) : উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের অধীন রেলওয়ে সুরক্ষা বাহিনী (আরপিএফ)-র অভিযানে ১৭ জন চোর গ্রেফতার এবং উদ্ধার হয়েছে প্রায় ২.২২ লক্ষ টাকার ১৭টি চুরির মোবাইল ফোনের হ্যান্ডস সেট।

আজ বুধবার এক প্রেস বার্তায় এ খবর দিয়ে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা জানান, এক অতুলনীয় এবং জনমুখী পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছে। এর দ্বারা সমগ্র জোনজুড়ে যাত্রী সুরক্ষা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং মানবিক সহায়তা প্রদানে উল্লেখযোগ্যভাবে মজবুত হয়েছে আরপিএফ। সক্রিয় সতর্কতা, দ্রুত পদক্ষেপ এবং সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে আরপিএফ নিরাপদ, সুরক্ষিত ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ রেলভ্রমণ নিশ্চিত করার প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

গত মাসে যাত্রীদের লাগেজ সুরক্ষিত করার ক্ষেত্রে আরপিএফ বৃহৎ সাফল্য অর্জন করেছে। তারা চুরির সঙ্গে জড়িত ১৭ জনকে গ্রেফতার করেছে এবং প্রায় ২.২২ লক্ষ টাকা মূল্যের ১৭টি চুরি যাওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে, যা তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট জিআরপির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

প্রেস বার্তায় তিনি জানান, অত্যন্ত সতর্কতার সাথে আরপিএফ কর্মীরা গুয়াহাটি রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন নম্বর ১৩১২৫ আপ ট্রেনে ওঠার সময় পিছলে যাওয়া এক মহিলা যাত্রীর জীবনও বাঁচিয়েছেন। যার ফলে একটি সম্ভাব্য গুরুতর দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। আরপিএফ-এর অপারেশনের মূল লক্ষ্য মানবিক সেবা, যার অধীনে ডিসেম্বর (২০২৫)-এ ৩৬ জন নাবালক ছেলে ও মেয়ে এবং তিনজন মহিলাকে উদ্ধার করা হয়ছে। পরবর্তী যত্ন ও পুনর্বাসনের জন্য তাদের চাইল্ড লাইন, সংশ্লিষ্ট এনজিও এবং জিআরপি-র কাছে নিরাপদে হস্তান্তর করা হয়েছে। আরপিএফ কর্মীরা নিউ জলপাইগুড়ি এবং রঙিয়া স্টেশনে প্রসবের সময় দুজন গর্ভবতী মহিলাকে সময়মতো সহায়তাও প্রদান করেছেন। আইন প্রয়োগের মাধ্যমে যাত্রীদের আস্থা মজবুত করে, চলন্ত ট্রেনে পাথর ছোঁড়ার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যেখানে আবর্জনা ফেলার জন্য ১,৭২২ জন অপরাধীর ওপর প্রায় ২.২৯ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে রেলওয়ে আইনের অধীনে ২,৬৬৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর ফলে ২,৬৩২ জন অপরাধীকে গ্রেফতার ও বিচারিক প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়েছে এবং প্রায় ৩.৩৬ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

আরপিএফ ১৩টি রেলের টিকিট বাজোপ্ত করার পাশাপাশি পাঁচ দালালকে গ্রেফতার করে অর্গানাইজড ক্রাইম ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে অভিযান তীব্র করেছে। মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে এক বৃহৎ অভিযানে ৩২টি মামলা রুজু করা হয়েছে। এতে প্রায় ৩.১৬ কোটি টাকা মূল্যের গাঁজা, হেরোইন, ব্রাউনসুগার ও কাশির সিরাপ উদ্ধার সহ ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া, অবৈধ মদ পাচারের ৩৯টি ঘটনায় প্রায় ২.৯৮ লক্ষ টাকা মূল্যের ২,৯৬০ বোতল মদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

এছাড়া আরপিএফ কমার্শিয়াল ডিপার্টমেন্টের সহায়তায় ৩২৫ জন টিকিটবিহীন যাত্রীকে আটক করে ৪.৮৫ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করেছে। ধূমপান নিয়ম লঙ্ঘনের জন্য ২৯৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে এবং প্রায় ২৬.৮০ লক্ষ টাকা মূল্যের ১১৮টি ফেলে যাওয়া লাগেজ উদ্ধার করে সুরক্ষিতভাবে যাত্রীদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সুরক্ষিত ও নিরবিচ্ছিন্ন রেল চলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আরপিএফ বিভিন্ন স্থানে ১১৫টি অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টকে সহায়তা করেছে। সম্মিলিতভাবে এই সাফল্যগুলি উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের অধীন আরপিএফ-এর যাত্রীকল্যাণ, পরিচালনাগত উৎকর্ষ এবং সকলের জন্য সুরক্ষিত, স্বচ্ছ ও আরও সুরক্ষিত রেল পরিবেশের প্রতি অবিচল নিষ্ঠাকে প্রতিফলিত করে বলে দাবি করা হয়েছে প্রেস বার্তায়।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande