পাহাড়ে শিউলির গন্ধ, কাশের দোল—দুর্গাপুজোর প্রস্তুতিতে মেতে উঠেছে ডিমা হাসাও হাফলঙে শতবর্ষের ঐতিহ্যের পাশে নতুন আকর্ষণ মা শক্তি দুর্গাপুজো
হাফলং, ১ অক্টোবর (হি স): শিশিরভেজা ভোর, শরতের নীল আকাশ আর বাতাসে শিউলির মিষ্টি গন্ধ—আগমনীর সুর যেন জানান দিচ্ছে, আর বেশি দেরি নেই। কাশফুলের দোল আর শরতের নির্মল আবহে ইতিমধ্যেই শারদোৎসবের প্রস্তুতিতে মেতে উঠেছে অসমের অন্যতম পাহাড়ি জেলা ডিমা হাসাও। প
পাহাড়ে শিউলির গন্ধ, কাশের দোল—দুর্গাপুজোর প্রস্তুতিতে মেতে উঠেছে ডিমা হাসাও হাফলঙে শতবর্ষের ঐতিহ্যের পাশে নতুন আকর্ষণ মা শক্তি দুর্গাপুজো


হাফলং, ১ অক্টোবর (হি স): শিশিরভেজা ভোর, শরতের নীল আকাশ আর বাতাসে শিউলির মিষ্টি গন্ধ—আগমনীর সুর যেন জানান দিচ্ছে, আর বেশি দেরি নেই। কাশফুলের দোল আর শরতের নির্মল আবহে ইতিমধ্যেই শারদোৎসবের প্রস্তুতিতে মেতে উঠেছে অসমের অন্যতম পাহাড়ি জেলা ডিমা হাসাও। পাহাড়ের কোলে দুর্গাপুজো ঘিরে এখন সর্বত্র সাজসাজ রব। পুজোর মণ্ডপ তৈরির কাজ থেকে শুরু করে প্রতিমা, আলোকসজ্জা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে ব্যস্ততা তুঙ্গে।

ডিমা হাসাও জেলার বিভিন্ন প্রান্তে এ বার অর্ধশতাধিক দুর্গাপুজোর আয়োজন হচ্ছে। তবে জেলার সদর শহর হাফলংয়ে পুজোর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। শহরজুড়ে এ বার প্রায় ২১টি পুজো অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিটি পুজোরই রয়েছে নিজস্ব ঐতিহ্য, ইতিহাস এবং আলাদা আকর্ষণ। ফলে দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে পাহাড়ি শহর হাফলং যেন কয়েক দিনের জন্য পরিণত হয় এক মিলনমেলায়।

হাফলংয়ের দুর্গাপুজোর ইতিহাসও যথেষ্ট প্রাচীন। প্রায় ১১৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ মন্দিরের দুর্গাপুজো এখনও শহরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। শতবর্ষ অতিক্রম করা হাফলং কালী মন্দিরের পুজোও বহন করে চলেছে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। পাশাপাশি রামকৃষ্ণ মিশনের দুর্গাপুজো এবং হাফলং রেল কলোনির পুজোতেও প্রতি বছর ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে দূরদূরান্তের দর্শনার্থীরা। পুরনো ঐতিহ্য ও নতুন প্রজন্মের উৎসাহ—দুইয়ের মেলবন্ধনেই হাফলংয়ের শারদোৎসবের নিজস্ব চরিত্র তৈরি হয়েছে।

এই ঐতিহ্যের পাশাপাশি সাম্প্রতিক বছরগুলিতে শহরের মানুষের বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে মা শক্তি দুর্গাপুজো কমিটির পুজো। হাফলং শহরের প্রাণকেন্দ্রে আয়োজিত এই পুজো আড়ম্বরের দিক থেকে হয়তো বড় বাজেটের পুজোগুলির সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার চেষ্টা করে না। বরং মাঝারি বাজেটের মধ্যেই পরিকল্পিত আয়োজন, নান্দনিক মণ্ডপসজ্জা, প্রতিমার সৌন্দর্য এবং দর্শনার্থীদের জন্য নানা চমক—এই পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

পুজো কমিটির সদস্যদের কথায়, শুধু বড় বাজেট নয়, মানুষের ভালোবাসা ও অংশগ্রহণই একটি পুজোকে সফল করে তোলে। সেই ভাবনাকে সামনে রেখেই প্রতি বছর পুজোর আয়োজন করা হয়। ফলে পুজোর দিনগুলিতে মা শক্তি দুর্গাপুজো মণ্ডপে দর্শনার্থীদের আনাগোনা থাকে চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে শিশু-কিশোর ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই পুজোকে ঘিরে উৎসাহ রয়েছে।

শরতের আগমনী হাওয়ায় ইতিমধ্যেই হাফলংয়ের অলিগলি বদলাতে শুরু করেছে। কোথাও বাঁশের কাঠামোয় মণ্ডপ তৈরির কাজ, কোথাও প্রতিমায় শেষ মুহূর্তের রং, আবার কোথাও আলোকসজ্জার প্রস্তুতি। ব্যবসায়ী মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—সকলের মধ্যেই পুজোকে ঘিরে তৈরি হয়েছে উৎসবের আবহ।

পাহাড়ি জেলার বহুজাতিক ও বহুভাষিক সমাজে দুর্গাপুজো শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, সামাজিক মিলন ও সম্প্রীতিরও অন্যতম উপলক্ষ। কয়েক দিন ধরে পুজোমণ্ডপগুলিতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মিলন ঘটে। তাই শরতের এই উৎসবের অপেক্ষায় এখন শুধু বাঙালি সমাজ নয়, গোটা হাফলং শহরই। শিউলির গন্ধ আর কাশফুলের দোল সেই অপেক্ষার কথাই যেন বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব




 

 rajesh pande