
বাঁকুড়া, ১৩ অক্টোবর (হি.স.) : মা দূর্গা আসছেন। নিম্নচাপের দাপট অনেকটাই কম ফলে কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছে জেলার ফুল চাষীরা। পূজোর মরশুমে গাঁদা ও পদ্ম ফুলের চাহিদা ওঠে তুঙ্গে। কিন্তু লাগাতার অতি বর্ষনে এই দুই ফুল চাষে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। বিবড়দার সচিন সিংহ ও নন্দগোপাল পাল, তালডাংরার অচিন্ত্য পাঠক ও সত্য কাইতি এবং ছাতনার হিমাংশু চেল ও গৌতম কবিরাজ জানান যে গত কয়েক বছর ধরে তারা পদ্ম চাষ করে আসছেন। সারা বছর পদ্মের চাহিদা থাকলেও জৈষ্ঠ্য মাসে শিবের পূজা থেকে বাড়তে থাকে এবং দুর্গা পূজা পদ্মের চাহিদা তুঙ্গে ওঠে। এবছর পদ্মফুলে বাজার চড়া। পদ্মফুল জাতীয় ফুল ও বিজেপির প্রতিক হওয়ায় নির্বাচনী প্রচারে এবং বিজয় উৎসবে ব্যাপক চাহিদা ছিল পদ্ম ফুলের।তাছাড়া দৈনিক বাজারে পূজার জন্য পদ্মের চাহিদা বেড়েছে।
অযোধ্যা, নাকাইজুড়ি, বেল বনি, রামপুর ইত্যাদি এলাকার পদ্ম চাষীদের বক্তব্য, পদ্ম চাষ করে এবার প্রায় সকলে লাভবান হয়েছে।পুকুরে পুকুরে বৃষ্টির জল ধরা থেকে পদ্ম গাছের বীজ সংগ্রহ করা প্রায় কিছুতেই স্হানীয় পরিবেশবিদ সংস্থা সহযোগিতা করে চলছে। ইতিমধ্যে মা দূর্গার পূজায় মানত পূরণের বহু মানুষ ১০৮টি করে পদ্ম সরবরাহের অর্ডার পেয়েছেন। অন্যদিকে বাঁকুড়া পৌরসভা সংলগ্ন এলাকার ফুল বিক্রেতা চন্ডী মাল, চকবাজার বি ফাঁড়ি বাজারের ফুল বিক্রেতা মদন মাকুড় ও লালবাজার সবজি বাজারের ফুল বিক্রেতা ভরত লায়েক জানান পদ্মফুলের চাহিদা বেড়ে চলেছে।বাড়ির লক্ষ্মী, নারায়ণ, বিষ্ণু, গোপাল, মহাদেব ও দুর্গা সহ প্রায় সব দেবদেবীর পূজায় পদ্মফুল লাগে। এক-একটি পদ্মফুল গড়ে ১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গড়ে ৫০-৬০টি পদ্ম বিক্রি হয়। তাদের বক্তব্য, বর্তমানে ফুল দোকান মানেই পদ্ম রাখতে হবে।
অন্যদিকে বাঁকুড়া ও বিষ্ণুপুর সহ জেলার বিভিন্ন শহরের হোটেলগুলিতে পদ্মপাতায় খাবার পরিবেশনের রেওয়াজ রয়েছে। এজন্য প্রতিদিন পদ্মপাতার ভাল চাহিদা রয়েছে।পদ্মফুল ও পাতার চাহিদা বৃদ্ধি তে ফুল চাষীদের বক্তব্য পদ্ম চাষ ক্রমেই একটা জীবিকা হয়ে উঠছে।ড়া
হিন্দুস্থান সমাচার / সোমনাথ বরাট