
মেদিনীপুর, ১৪ অক্টোবর (হি.স.) :
পশ্চিমবঙ্গের শিল্প শহর হলদিয়ায় বুধবার ফেনল ও অ্যাসিটোন প্ল্যান্টের উদ্বোধনী মঞ্চে রাজ্যের ভবিষ্যৎ শিল্পায়নের এক বিশাল রূপরেখা তুলে ধরলেন ‘চ্যাটার্জি গ্রুপ’ (TCG)-এর কর্ণধার পূর্ণেন্দু চ্যাটার্জি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে তিনি ঘোষণা করেন যে, তাঁর সংস্থা বিভিন্ন ভবিষ্যৎ প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলায় আগামী দিনে অন্তত ১০ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করেছে। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে ব্যক্ত করেন যে, একটি পরম সমৃদ্ধ রাজ্যে পরিণত হওয়ার পূর্ণ সম্ভাবনা ও সক্ষমতা পশ্চিমবঙ্গের রয়েছে এবং এই অমিত সম্ভাবনাকে সঠিক উপায়ে কাজে লাগিয়েই বৃহৎ পরিসরে কর্মসংস্থান তৈরি সম্ভব।
রাজ্যের শিল্পোন্নয়ন সম্পর্কে আশাবাদ ব্যক্ত করে অনুষ্ঠানে পূর্ণেন্দু চ্যাটার্জি রাজ্য সরকারের কাছে একটি বিশেষ মূলধনী তহবিল বা 'ক্যাপিটাল ফান্ড' গঠনের প্রস্তাব রাখেন। তিনি বলেন, “২০৪৭ সালের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গকে শিল্প ক্ষেত্রে দেশের শীর্ষতম রাজ্যে পরিণত করতে হলে এখন থেকেই একটি প্রধান মূলধনী তহবিলের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পূর্ণেন্দু চ্যাটার্জি হলদিয়ায় শিল্প স্থাপনের শুরুর সেই স্মৃতির কথা স্মরণ করেন। তিনি আবেগপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আজ থেকে ৩৩ বছর আগে যখন আমি প্রথম এই হলদিয়ায় পা রেখেছিলাম, তখন এখানে কেবল ‘হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস’-এর একটি সাইনবোর্ড ঝুলছিল এবং চারপাশে গুটিকয়েক গরু চরছিল। কিন্তু আজকের এই বিশ্বমানের কারখানার রূপায়ন বহু মানুষের আত্মত্যাগ, অক্লান্ত পরিশ্রম এবং ঐকান্তিক প্রচেষ্টারই ফসল।”
বাংলায় এই বিশাল শিল্প গড়ে তোলার নেপথ্যে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু এবং নিজের মায়ের কাছ থেকে পাওয়া অনুপ্রেরণার কথা তুলে ধরেন চ্যাটার্জি গ্রুপের প্রধান। তিনি স্মৃতিচারণ করে জানান, সেই সময়ে জ্যোতি বসু তাঁকে বলেছিলেন, “বাঙালি যদি নিজেদের বাঙালিদের খেয়াল না রাখে, তবে আর কে রাখবে?” অন্যদিকে তাঁর মা-ও তাঁকে পরামর্শ দিয়ে বলেছিলেন যে, সম্ভব হলে নিজের জন্মভূমি বাংলার কল্যাণে যেন তিনি অবশ্যই কিছু করেন।
তবে হলদিয়ায় শিল্প স্থাপনের এই তিন দশকের দীর্ঘ পথ যে একেবারেই মসরিন ছিল না, তা সানন্দে স্বীকার করে নেন তিনি। পূর্ণেন্দু চ্যাটার্জি জানান, বিগত তিন দশকে সংস্থাকে বহু কঠিন পরিস্থিতি, বাধা-বিপত্তি এবং অগ্নিপরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। এই সমস্ত চ্যালেঞ্জ ও প্রতিকূলতার মাঝে এগিয়ে যাওয়ার আসল শক্তি তিনি পেয়েছিলেন স্বামী বিবেকানন্দের অমূল্য বাণী থেকে— “উঠো, জাগো এবং লক্ষ্য না পৌঁছানো পর্যন্ত থামো না।” এই মহান আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করেই তিনি নিরন্তর পথ চলেছেন।
উল্লেখ্য, এদিন অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানোর পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রথমে স্থানীয় মন্দিরে পুজো ও আরতি সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি নতুন ফেনল ও অ্যাসিটোন কারখানার সার্বিক পরিকাঠামো ঘুরে দেখেন এবং কন্ট্রোল রুমের কার্যপ্রণালী পর্যবেক্ষণ করেন। এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কাঁথির প্রবীণ জননেতা শিশির অধিকারী, স্বপন দাশগুপ্ত, অর্জুন সিং, তাপস রায় এবং জগন্নাথ চ্যাটার্জি সহ একাধিক মন্ত্রী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। এছাড়া মেদিনীপুরের সাংসদ জুন মালিয়া এবং নন্দীগ্রামের বিধায়ক হাছিরানী রথও এই গৌরবোজ্জ্বল অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি