
আগরতলা, ১৪ অক্টোবর (হি.স.) : রোগীদের ওষুধ প্রাপ্তি আরও সহজ, সুশৃঙ্খল ও তথ্যনির্ভর করে তুলতে আয়ুষ্মান ভারত ডিজিটাল মিশনের পরিষেবা চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে ত্রিপুরা কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্টস অ্যাসোসিয়েশন। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আভা কার্ডের মাধ্যমে রোগীদের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি প্রেসক্রিপশন সংক্রান্ত ভুলভ্রান্তি কমানো এবং রোগীর পূর্ববর্তী চিকিৎসার ইতিহাস পর্যালোচনার ক্ষেত্রেও সুবিধা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
বুধবার আগরতলার বাদুরতলায় ত্রিপুরা কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয়ে এই উদ্যোগকে সামনে রেখে একটি প্রস্তুতি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি ড্রাগস কন্ট্রোলার সুব্রত দাস, সংগঠনের সভাপতি সুদীপ কুমার রায়, সাধারণ সম্পাদক সত্যব্রত দেবনাথ-সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। বৈঠকে আয়ুষ্মান ভারত ডিজিটাল মিশনের সফটওয়্যার ও সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল পরিষেবা চালুর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে এই উদ্যোগের কথা জানান ডেপুটি ড্রাগস কন্ট্রোলার সুব্রত দাস।
স্বাস্থ্য পরিষেবায় চিকিৎসার পাশাপাশি সঠিক ওষুধের প্রাপ্যতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে রোগীরা চিকিৎসকের পরামর্শ পেলেও ওষুধ সংগ্রহ, প্রেসক্রিপশনের তথ্য সংরক্ষণ এবং পূর্ববর্তী চিকিৎসার বিবরণ খুঁজে পেতে সমস্যার সম্মুখীন হন। এই ধরনের অসুবিধা কমাতে ডিজিটাল ব্যবস্থাকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সংগঠনটি।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় আভা কার্ডের মাধ্যমে রোগীর স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ ও ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। ফলে কোনও রোগী দীর্ঘদিন পর পুনরায় চিকিৎসকের কাছে গেলে তাঁর পূর্ববর্তী রোগ, চিকিৎসা এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যতথ্য পর্যালোচনা করা সহজ হবে। এতে চিকিৎসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং রোগীর চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবস্থাপনায় সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ডেপুটি ড্রাগস কন্ট্রোলার সুব্রত দাসের মতে, এই পদ্ধতি চালু হলে প্রেসক্রিপশন সংক্রান্ত ভুলভ্রান্তি কমানোর ক্ষেত্রে সহায়তা মিলবে। রোগীর স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য ডিজিটাল ব্যবস্থায় উপলব্ধ থাকলে চিকিৎসার পূর্ববর্তী ইতিহাস পর্যালোচনা করাও সহজ হবে। তবে এই পরিষেবা কার্যকরভাবে চালু করতে সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যার ব্যবহারের ব্যবস্থা, ওষুধের দোকানগুলিতে প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইনে ওষুধ কেনার প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রচলিত ওষুধ ব্যবসার উপর তার প্রভাব নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশের মতে, ডিজিটাল পরিষেবার মাধ্যমে ওষুধের দোকানগুলিকে আরও আধুনিক করে তোলা গেলে গ্রাহকদের পরিষেবা প্রদানের মান বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ীদের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার ক্ষেত্রেও সহায়তা মিলতে পারে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকেও ত্রিপুরা কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের এই উদ্যোগকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে আভা কার্ড মূলত রোগীর স্বাস্থ্যতথ্য ডিজিটালভাবে সংযুক্ত ও ব্যবস্থাপনার একটি মাধ্যম। কার্ড থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওষুধ পাওয়া যাবে, এমন নয়; ওষুধ সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন এবং অন্যান্য নিয়ম মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি রোগীর স্বাস্থ্যতথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এই ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।
সব মিলিয়ে, আয়ুষ্মান ভারত ডিজিটাল মিশনের পরিষেবা ওষুধের দোকানগুলির সঙ্গে যুক্ত করার এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ত্রিপুরায় স্বাস্থ্য পরিষেবার ডিজিটাল পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার পথে একটি নতুন পদক্ষেপ হতে পারে। এখন এই পরিকল্পনা কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং রাজ্যের কতগুলি ওষুধের দোকান এই ব্যবস্থার আওতায় আসে, সেদিকেই নজর থাকবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ