
কলকাতা, ১৪ অক্টোবর (হি.স.) : পশ্চিমবঙ্গে শিল্পোন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আরও এক বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলো। রাজ্যের শিল্প বিকাশকে তরান্বিত করতে হলদিয়ায় প্রায় ৬,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে নির্মিত হল একটি অত্যাধুনিক ‘ফেনল ও অ্যাসিটোন প্ল্যান্ট’ । বুধবার চতুর্থীর শুভলগ্নে এই নতুন শিল্পপ্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জানা গিয়েছে, বিশিষ্ট শিল্পসংস্থা ‘হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস লিমিটেড’-এর সম্পূর্ণ মালিকানাধীন সহায়ক সংস্থা ‘এডাপার্মা প্রাইভেট লিমিটেড’ এই বিশাল প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে।
এদিনের এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, পরিবহণ মন্ত্রী অর্জুন সিং এবং মুখ্য সচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল সহ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা। হলদিয়ায় পৌঁছানোর পর প্রথমে মুখ্যমন্ত্রী কারখানা চত্বর পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় মন্দির চত্বরে প্রথাগতভাবে আরতি ও পুজো দেন। এরপর ফিতে কেটে এবং শুভ প্রদীপ জ্বালিয়ে তিনি এই নতুন কারখানার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
প্রশাসনের আশা, হলদিয়ার এই মেগা প্রকল্পটি এই অঞ্চলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থানের প্রচুর নতুন সুযোগ তৈরি করবে। এর পাশাপাশি, এটি হলদিয়া ও সংলগ্ন অঞ্চলে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ আনুষঙ্গিক বা ডাউনস্ট্রিম শিল্পের বিকাশকেও তীব্রভাবে উৎসাহিত করবে। সার্বিকভাবে হলদিয়াকে বাংলার শিল্প বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের অন্যতম প্রধান হাব বা কেন্দ্র হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রে এটিকে একটি অত্যন্ত দূরদর্শী পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আত্মবিশ্বাসের সুরে বলেন যে, রাজ্যে শিল্পায়নের যে নবজোয়ার শুরু হয়েছে, তাকে এখন আর কেউ রুখতে পারবে না। তিনি বলেন, “ডবল ইঞ্জিন সরকারের হাত ধরে পশ্চিমবঙ্গ এখন দ্রুত অগ্রগতির পথে এগিয়ে চলেছে এবং আগামী দিনে রাজ্যে আরও বড় বড় শিল্প বিনিয়োগ আসবে।”
নতুন এই প্রকল্পটির উৎপাদন ক্ষমতা সম্পর্কে জানানো হয়েছে যে, এর মাধ্যমে বছরে ৩ লক্ষ ৪৫ হাজার টন ফেনল এবং ২ লক্ষ ১৫ হাজার টন অ্যাসিটোন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। এই কারখানাটি পুরোপুরি চালু হলে হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের সামগ্রিক উৎপাদন ক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে, বিভিন্ন শিল্পে প্রয়োজনীয় এই রাসায়নিকগুলি সরবরাহের জন্য রাজ্য তথা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীলতা অনেকটাই কমবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হওয়ায় পশ্চিমবঙ্গের রাসায়নিক শিল্প ক্ষেত্রটি যেমন আরও বেশি শক্তিশালী হবে, তেমনই পূর্ব ভারতে এই জাতীয় রাসায়নিক পণ্যের প্রাপ্যতা এক লাফে অনেকখানি বেড়ে যাবে। এর ফলে সামগ্রিকভাবে আমদানি নির্ভরতা হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি কারখানার চর্তুর্পাশে গড়ে ওঠা আনুষঙ্গিক শিল্পগুলি সামগ্রিক অর্থনৈতিক গতিশীলতাকে নতুন উচ্চতা দেবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সন্তোষ মধুপ