
কলকাতা, ২ অক্টোবর (হি.স.) :স্টিয়ারিংয়ে শক্ত হাত থেকে টিকিট কাটার সুনিপুণ দক্ষতা— কলকাতার বুকে গণপরিবহণ সচল রাখতে পুরুষদের পাশাপাশি প্রতিদিন নীরবে লড়াই চালিয়ে যাওয়া মহিলা কর্মীদের অসামান্য অবদানকে বিশেষ সম্মান জানানো হলো। বাস পরিষেবার ঐতিহ্য রক্ষা ও বাসকর্মীদের নিরলস পরিশ্রমকে কুর্নিশ জানাতে শুক্রবার তিলোত্তমায় আয়োজিত হলো ‘বাসযাত্রা ৪.০’। ‘কলকাতা বাস-ও-পেডিয়া ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই বিশেষ কর্মসূচিতে বাংলা তথা কলকাতার বাসের দীর্ঘ ইতিহাস ও বিবর্তনের পাশাপাশি এবার মুখ্য আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এল পরিবহণ ক্ষেত্রে নারীদের অনুকরণীয় ভূমিকা।হাওড়া ময়দান থেকে সূচনা হওয়া এই বাসযাত্রার শুভ উদ্বোধন করেন রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী অর্জুন সিং। তিনি সবুজ পতাকা নেড়ে বর্ণাঢ্য এই শোভাযাত্রার আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ শহরের বিভিন্ন রুটের ঐতিহ্যবাহী বাস হাওড়া ময়দানে এসে জমা হয়। পরবর্তীতে বাসগুলি রবীন্দ্র সদন ও অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস সংলগ্ন সাংস্কৃতিক চত্বরে পৌঁছায়। সেখানে বাসের বিবর্তন নিয়ে এক বিশেষ প্রদর্শনী ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।এবারের ‘বাসযাত্রা’-য় সবচেয়ে উজ্জ্বল ও জোরালোভাবে ফুটে উঠেছে পুরুষতান্ত্রিক প্রথা ভেঙে স্টিয়ারিং ও টিকিট কাউন্টার সামলানো মহিলা বাসচালক, কন্ডাক্টর ও মালিকদের অদম্য লড়াইয়ের গল্প। বিশেষ নজর কাড়েন ৫৭ নম্বর রুটের বাসের মালিক তথা নিজেই কন্ডাক্টরের দায়িত্ব সামলানো ডলি রানা। তাঁর পাশাপাশি কোনা-এসপ্ল্যানেড, ডায়মন্ড হারবার-কলকাতা, নিমতা-হাওড়া এবং ৩৪-সি রুটের দুঃসাহসী মহিলা বাসচালকদের কর্মনিষ্ঠা বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। পশ্চিমবঙ্গ পরিবহণ নিগমের অধীনে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা মহিলা কন্ডাক্টরদের ভূমিকাও এই আলোচনায় সমান গুরুত্ব পায়।প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া চারটি বিশেষ বাস ছিল অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ। ২০২৩ সাল থেকে শুরু হওয়া ‘বাসযাত্রা’ কর্মসূচির মাধ্যমে কলকাতার শতাব্দীপ্রাচীন বাস পরিষেবার ঐতিহ্য ধরে রাখার যে প্রয়াস চলছে, এবার সেখানে নারীশক্তির এই গৌরবময় অবদান যুক্ত হয়ে তা এক নতুন মাত্রা লাভ করল।
হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত