
নয়াদিল্লি, ২১ অক্টোবর (হি.স.) :
উত্তরপ্রদেশে ২০২৭ সালের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়াতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। চলতি মাসের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত হতে চলা দলের রাজ্য ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে যোগ দিয়ে নির্বাচনী প্রচারের আনুষ্ঠানিক সূচনা করতে চলেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব নির্বাচনী প্রস্তুতিকে আরও বেগবান করবে।
দলীয় সূত্রে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, আগামী ৩০ ও ৩১ অক্টোবর বিজেপির রাজ্য কার্যনির্বাহী কমিটির দু'দিনের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীন এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁরা দুজনেই কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও দলের বিশিষ্ট নেতাদের উদ্দেশ্যে মূল্যবান দিকনির্দেশনা মূলক ভাষণ দেবেন।
এই বৈঠকে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, দুই উপ-মুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক ও কেশব প্রসাদ মৌর্য, রাজ্য বিজেপি সভাপতি পঙ্কজ চৌধুরী, রাজ্য সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) ধর্মপাল এবং উত্তরপ্রদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত দলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক বিনোদ তাওড়ে উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া রাজ্যের সমস্ত দলীয় পদাধিকারী, বিধায়ক, সাংসদ, প্রাক্তন সাংসদ ও বিশিষ্ট নেতৃত্ব এই বৈঠকে অংশ নিয়ে মতবিনিময় করবেন। সূত্রের খবর, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট কৌশল নির্ধারণ, সংগঠনের ভিত আরও মজবুত করা এবং সরকারি ও সাংগঠনিক স্তরে পারস্পরিক সমন্বয় বৃদ্ধির বিষয়গুলি এই বৈঠকে প্রধান এজেন্ডা হিসেবে স্থান পাবে।
শুধু রাজ্য কার্যনির্বাহী কমিটিই নয়, আগামী সপ্তাহগুলিতে উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়ে বুথ স্তরের তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গেও বিশেষ বৈঠক করতে পারেন অমিত শাহ। এই সমস্ত ধারাবাহিক বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য হলো—তৃণমূল স্তরে দলের সাংগঠনিক স্থিতি ও শক্তির সঠিক মূল্যায়ন করা এবং ভোটের আগে দলকে পুরোপুরি সক্রিয় করে তোলা। অতীতেও বিভিন্ন নির্বাচনী রাজ্যে শাহ সরাসরি বুথ স্তরের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সংগঠনকে শক্তিশালী করার নীতি নিয়ে সফল হয়েছেন। উত্তরপ্রদেশের ক্ষেত্রেও সেই একই পরীক্ষিত কৌশলে প্রস্তুতি জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে দলের।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরপ্রদেশ সর্বদা জাতীয় রাজনীতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র এবং বিজেপির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রাজ্য। সেই কারণেই নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার বহু আগেই দল নিজেদের সাংগঠনিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত স্তরে নিয়ে যেতে চাইছে। প্রস্তাবিত রাজ্য কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক এবং বুথ স্তরের কর্মীদের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময় এই লক্ষ্য অর্জনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / Sachin Budhauliya