
পূর্ব বর্ধমান, ২১ অক্টোবর (হি.স.) :
দুর্গোৎসবের আনন্দ ও বিজয়া দশমীর খুশির আবহেই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় কেঁপে উঠল পূর্ব বর্ধমান জেলা। জেলার রায়না ও ভাতার—এই দুই পৃথক থানা এলাকায় লরির ধাক্কা এবং বাইক দুর্ঘটনায় মোট পাঁচজন যুবকের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। একসঙ্গে এতগুলি মৃত্যুর খবরে বিজয়ার আনন্দ নিমেষেই বিষাদে বদলে গেছে এবং গোটা এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার সকালে বর্ধমান-আরামবাগের ৭ নম্বর রাজ্য সড়কে, পূর্ব বর্ধমানের রায়না থানার মিরেপোতা জহুরী পুকুর এলাকার একটি পেট্রল পাম্পের সামনে। সেহারা গ্রাম পঞ্চায়েতের বাজিতপুর গ্রামের তিন বাসিন্দা—কামাখ্যা রায় (৬১), নাড়ুগোপাল রায় (৪৫) এবং শ্রীকান্ত রায় (৪১)—একটি মোটরসাইকেলে চড়ে পেট্রল নেওয়ার জন্য ওই পাম্পের দিকে যাচ্ছিলেন। সেই সময় রাস্তা পার হওয়ার সময় বর্ধমানমুখী একটি দ্রুতগামী লরি তাঁদের বাইকটিতে সজোরে ধাক্কা মারে।
দুর্ঘটনার অভিঘাতে তিন জনই গুরুতর জখম হন। খবর পেয়ে রায়না থানার সেহারাবাজার ফাঁড়ির পুলিশ ও ট্রাফিক আধিকারিকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠান। কিন্তু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনেই মারা যান। দুর্ঘটনার পর ঘাতক লরিটিকে পুলিশ আটক করতে সক্ষম হলেও চালক পলাতক রয়েছে। একই গ্রামের তিন ব্যক্তির আকস্মিক মৃত্যুতে বাজিতপুর গ্রামে কান্নার রোল পড়ে গেছে।
অন্যদিকে, বিজয়া দশমীর আনন্দ শেষের রাতে আর এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে পূর্ব বর্ধমানের ভাতারে। ঠাকুর দেখে মোটরসাইকেলে চেপে রাতে বাড়ি ফেরার পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে দুই যুবকের। মৃতেরা হলেন মনোজ পাল (৩০) এবং জিৎ মাঝি (১৯)। দু’জনেই ভাতারের পারহাট গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ ভাতারের ছয় মাইল থেকে হলদি যাওয়ার রাস্তায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। বর্ধমান শহর থেকে ঠাকুর দেখে একটি বাইকে করে বাড়ি ফিরছিলেন মনোজ ও জিৎ। পারহাট গ্রামের শ্মশানের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর তাঁদের বাইকটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা গুরুতর আহত অবস্থায় দু’জনকে উদ্ধার করে ভাতার হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় এক যুবককে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা এবং অন্যজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বর্ধমান হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁরও মৃত্যু হয়। বুধবার পুলিশ মৃতদেহ দুটি ময়নাতদন্তের পর পরিবারের হাতে তুলে দেয় এবং দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে। এক দিনে পরপর এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচজনের প্রাণহানির ঘটনায় সমগ্র বর্ধমান জুড়ে শোকের কালো ছায়া নেমে এসেছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি