
কলকাতা, ২১ অক্টোবর (হি.স.): চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনার পর প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করল রাজ্য প্রশাসন। ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কলকাতা-সহ চারটি শহরে মোট ১৮ জন আইপিএস আধিকারিককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কলকাতা পুলিশ এলাকায় বিসর্জন পর্বের নজরদারিতে থাকছেন ১২ জন আইপিএস। রাজ্য পুলিশ অধিদফতরের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে এই দায়িত্ব বণ্টনের কথা জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২১ অক্টোবর দশমী থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন ঘাট ও এলাকায় প্রতিমা নিরঞ্জনের নিরাপত্তা পরিচালনা করবেন নিযুক্ত আধিকারিকেরা। কলকাতা পুলিশ এলাকায় ২১ ও ২৩ অক্টোবর দায়িত্বে থাকবেন আইপিএস গৌরব শর্মা, সোমা দাস মিত্র, রশিদ মুনির খান, আকাশ মাঘারিয়া, সুরেশ কুমার চডিভে এবং ধৃতিমান সরকার। ২২ ও ২৪ অক্টোবর দায়িত্ব সামলাবেন প্রবীণ কুমার ত্রিপাঠী, ইমরান ওয়াহাব, শীশ রাম ঝাঝারিয়া, সৌম্য রায়, পারিজাত বিশ্বাস এবং সিদ্ধার্থ ধাপোলা।
কলকাতার পাশাপাশি হাওড়া, ব্যারাকপুর ও চন্দননগরেও বিসর্জন পর্বে অতিরিক্ত নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাওড়া পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় ২১ ও ২৩ অক্টোবর দায়িত্বে থাকবেন ইন্দ্র চক্রবর্তী। ২২ ও ২৪ অক্টোবর দায়িত্ব সামলাবেন অরবু রবীন্দ্রনাথ। ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় নজরদারির দায়িত্ব পেয়েছেন পলাশচন্দ্র ঢালি ও দ্যুতিমান ভট্টাচার্য। চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় দায়িত্বে থাকবেন অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপ মণ্ডল।
উল্লেখ্য, ১৭ অক্টোবর মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন পুজোমণ্ডপে প্রবল ভিড় ও আকস্মিক বৃষ্টির মধ্যে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ১৯ জন দর্শনার্থীর মৃত্যু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের অভিযোগ, আয়োজকদের ভুল ঘোষণার জেরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। ঘটনার তদন্তে কলকাতা পুলিশ বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় ছ’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনার পর বিসর্জন ঘিরে ভিড় ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রশাসন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। ঘাট ও বিসর্জনের রাস্তায় যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তা নিশ্চিত করতেই সিনিয়র আইপিএস আধিকারিকদের নেতৃত্বে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করা হচ্ছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য