
হাওড়া, ২৫ অক্টোবর (হি.স.): হাওড়া জেলার বাঁকড়া এলাকায় ডেঙ্গুর ক্রমবর্ধমান সংক্রমণ উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ওই এলাকায় এখনও পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্তের মোট সংখ্যা ৬২৩ জনে পৌঁছেছে। পাশাপাশি, ১৪ থেকে ২০ অক্টোবরের মধ্যে এক সপ্তাহে ২৭ জন নতুন রোগীর সন্ধান মিলেছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১৯ জন রোগী বাঁকড়া এক নম্বর পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা। ক্রমাগত নতুন সংক্রমণের ঘটনা সামনে আসায় স্থানীয় বাসিন্দাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত অধিকাংশ রোগীকে হাওড়া জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে। তবে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের বর্তমান অবস্থা এবং গুরুতর অসুস্থ রোগীর সংখ্যা সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
ডেঙ্গুর লাগামছাড়া সংক্রমণের মাঝে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ এর প্রতিরোধে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করার কথা জানিয়েছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে মশার লার্ভা ও প্রজননস্থল ধ্বংস করা, আশপাশে জমে থাকা জল পরিষ্কার করা, নিয়মিত জঞ্জাল অপসারণ এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু ছড়ানোর জন্য দায়ী এডিস মশা পরিষ্কার জলেও জন্ম নিতে পারে। বাড়ির আশপাশে রাখা টব, পুরোনো টায়ার, খোলা পাত্র বা অন্যান্য জায়গায় জমে থাকা জল মশার বংশবৃদ্ধির কারণ হতে পারে। তাই সাধারণ মানুষকে নিজেদের বাড়ি ও আশপাশে জল জমতে না দেওয়া এবং জলের ট্যাঙ্কি ও পাত্র ঢেকে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রচণ্ড জ্বর, মাথা ব্যথা, চোখের পিছন দিকে ব্যথা এবং পেশি বা গাঁটে ব্যথার মতো লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক। এছাড়া পেটে তীব্র ব্যথা, ক্রমাগত বমি হওয়া বা রক্তপাতের মতো গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের সাহায্য নিতে হবে।
বাঁকড়ায় এখনও পর্যন্ত ৬২৩ জন আক্রান্ত হওয়া এবং এক সপ্তাহে ২৭টি নতুন সংক্রমণের ঘটনা সামনে আসার পর স্বাস্থ্য বিভাগের নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক অভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বাঁকড়া এক নম্বর পঞ্চায়েত এলাকায় সবচেয়ে বেশি নতুন রোগী মেলায় সেখানে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। এই সংক্রমণ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বাস্থ্য বিভাগ, পঞ্চায়েত ও স্থানীয় বাসিন্দাদের যৌথ প্রচেষ্টা একান্ত জরুরি।
--------
হিন্দুস্থান সমাচার / সন্তোষ মধুপ