
আগরতলা, ৩ অক্টোবর (হি.স.) : রাজ্যে মৎস্য শিক্ষা, গবেষণা ও মানবসম্পদ উন্নয়নকে আরও শক্তিশালী করতে পৃথক মৎস্য বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করলেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী কিশোর বর্মন। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যে একটি পৃথক মৎস্য বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠলে মৎস্য শিক্ষার পরিসর যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনই এই ক্ষেত্রে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির প্রক্রিয়াও আরও শক্তিশালী হবে।
শনিবার লেম্বুছড়াস্থিত কলেজ অফ ফিশারিজের প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই অভিমত ব্যক্ত করেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, কলেজ অফ ফিশারিজ ইতিমধ্যেই রাজ্যে মৎস্য শিক্ষা, দক্ষতা ও জ্ঞানচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। আগামী দিনে এই প্রতিষ্ঠানকে আরও বৃহত্তর পরিসরে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
মন্ত্রী শিক্ষার সঙ্গে বাস্তব জীবনের সমস্যাগুলির সংযোগ স্থাপনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। তাঁর বক্তব্য, শুধুমাত্র প্রথাগত শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে জ্ঞান, গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনকে একসূত্রে যুক্ত করে একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। মৎস্য ক্ষেত্রের উন্নয়নকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও গবেষকদের বাস্তবমুখী জ্ঞান অর্জনের সুযোগ আরও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
উন্নত ভারত গড়ার লক্ষ্যে মৎস্য ক্ষেত্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী। পাশাপাশি রাজ্যের মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং মাছ উৎপাদনে ত্রিপুরাকে স্বনির্ভর করে তোলার ক্ষেত্রেও মৎস্য শিক্ষার গুরুত্বের কথা তিনি তুলে ধরেন। উৎপাদন বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার মাধ্যমে রাজ্যের মৎস্য ক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি।
এদিন প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে কলেজ অফ ফিশারিজে একাধিক নতুন পরিকাঠামোরও উদ্বোধন করা হয়। উচ্চশিক্ষামন্ত্রী ‘রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম’ বা আরএএস এবং ‘ফিশ সিড রিয়ারিং ইউনিট’-এর উদ্বোধন করেন। পাশাপাশি ছাত্রদের হোস্টেল ভবনের সম্প্রসারিত অংশেরও উদ্বোধন করেন তিনি। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই পরিকাঠামোগুলি মৎস্য শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে এদিন ‘বার্ষিক কলেজ সপ্তাহ-২০২৬’-এর বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় কৃতী শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করা হয়। সাহিত্য, ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক এবং সামগ্রিক কার্যক্রমে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ‘স্টুডেন্ট অফ দ্য ইয়ার’ এবং ‘একাডেমিক এক্সিলেন্স’-এর জন্যও পুরস্কার প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদেরও বিশেষভাবে সম্মানিত করা হয়। ২০২৫-২৬ সালে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পেশাগত সাফল্য ও গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য মোট ৩৯ জন কৃতি প্রাক্তন শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা জানানো হয়। তাঁদের হাতে সম্মাননা তুলে দিয়ে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক ও তাঁদের সাফল্যের স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
এদিন আইসিএআর এআইইইএ (পিজি)-২০২৬ পরীক্ষায় কলেজের শীর্ষ দুই স্থানাধিকারীকে ‘প্রফেসর জে. আর. ধানজে মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়। জাতীয় স্তরের এই পরীক্ষায় ফিশারিজ সায়েন্স বা মৎস্য বিজ্ঞানে সর্বভারতীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জনকারী এস. দিনেশ সিং-কেও বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়া হয়। তাঁর এই সাফল্য কলেজের পাশাপাশি রাজ্যের জন্যও গৌরবের বলে অনুষ্ঠানে উল্লেখ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টেকনো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক রতন কুমার সাহা, প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তরের বিশেষ সচিব এস. প্রভু, লেম্বুছড়ার কলেজ অফ এগ্রিকালচারের অধ্যক্ষ অধ্যাপক দেবাশিস সেন প্রমুখ।
কলেজ অফ ফিশারিজের ডিন অধ্যাপক অরুণ ভাই প্যাটেল প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করার জন্য বিশিষ্ট অতিথি, শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মী, শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। শেষে ফিশারিজ কলেজের আধিকারিক এম. সঞ্জু সিং-এর ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ