
কলকাতা, ৩ অক্টোবর (হি.স.) :
কলকাতার ওসওয়াল ভবন প্রেক্ষাগৃহে শনিবার শ্রী বড়বাজার কুমারসভা লাইব্রেরির উদ্যোগে ‘১১তম কর্মযোগী যুগলকিশোর জেথলিয়া স্মারক বক্তৃতা’ আয়োজিত হয়। এ বছরের স্মারক বক্তৃতার মূল থিম ছিল— ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭-এর ভাবনায় তরুণ সমাজের ভূমিকা ও অবদান’। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ‘পাঞ্চজন্য’-র প্রাক্তন সম্পাদক তথা প্রখর চিন্তাবিদ অধ্যাপক বলদেবভাই শর্মা। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির জাতীয় যৌথ সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) শিব প্রকাশ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ আয়কর উপদেষ্টা সাজ্জন কুমার তুলস্যান।
প্রধান বক্তা শিব প্রকাশ প্রয়াত যুগলকিশোর জেথলিয়াকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে জানান, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ড. মুরলী মনোহর জোশীর সময়কালে সংগঠনকে সুদৃঢ় ও শক্তিশালী করতে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। বর্তমান বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপটে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে শিব প্রকাশ বলেন, “আজ ভারতের তরুণ প্রজন্মকে পথভ্রষ্ট করে দেশে নৈরাজ্য ছড়ানোর এক সুপরিকল্পিত চক্রান্ত চলছে, যার নেপথ্যে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ও বিদেশি শক্তি সক্রিয়ভাবে জড়িত।” তিনি স্পষ্ট জানান, কোনো উন্নত দেশই চায় না যে ভারত শক্তিশালী হয়ে উঠুক; কারণ একটি শক্তিশালী ভারত তাঁদের বহু যোজন পেছনে ফেলে এগিয়ে যাবে।
রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সরসংঘচালক ড. মোহন ভাগবতের বার্তা উল্লেখ করে শিব প্রকাশ বলেন, ভারত অন্যান্য সাম্রাজ্যবাদী দেশের মতো বিশ্ব শাসন করার জন্য 'সুপার পাওয়ার' বা মহাশক্তি হতে চায় না, বরং ভারত বিশ্বের দরবারে ‘বিশ্বগুরু’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে চায়। আজ যারা নিজেদের মহাশক্তি বলে দাবি করে, তারা মূলত সমগ্র বিশ্বে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা চাপিয়ে দিতে সচেষ্ট। স্বামী বিবেকানন্দের শিকাগো বক্তৃতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিশ্বজুড়ে কেবল প্রেম ও ধর্মই স্থায়ী হবে, আর ঘৃণা ও সংঘাতের পতন অনিবার্য। তরুণ সমাজের শক্তি ও প্রভাব তুলে ধরে তিনি মন্তব্য করেন, যুবসমাজ যেদিকে চালিত হয়, বিশ্ব ও সময় সেই দিশাতেই ধাবিত হয়।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক বলদেবভাই শর্মা বলেন, যুগলকিশোর জেথলিয়া ছিলেন ভারতের প্রাচীন ঋষি ঐতিহ্যের অন্যতম বাহক, যাঁকে স্মরণ করা মাত্রই হৃদয়ে সততা ও পবিত্রতা জাগ্রত হয়। তরুণ প্রজন্মকে পথভ্রষ্ট হওয়া থেকে রক্ষার আহ্বান জানিয়ে তিনি সতর্ক করেন, কোনো দেশের যুবসমাজ দিকভ্রান্ত হলে সেই দেশের ভবিষ্যৎ কোনোভাবেই সুরক্ষিত থাকতে পারে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আজকের নতুন প্রজন্মকে 'প্রকৃত ভারত' কী— তা শেখানো অত্যন্ত জরুরি। যতক্ষণ না আমরা আমাদের সন্তানদের ভারতীয় সভ্যতা, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং এর বৈচিত্র্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেব, ততক্ষণ পর্যন্ত 'বিকশিত ভারত'-এর স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে।” ভারতকে এক বৈভবশালী রাষ্ট্রে পরিণত করার গুরুদায়িত্ব পালন থেকে পিছিয়ে আসার কোনো সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপি বিধায়ক বিজয় ওঝা বলেন, যুগলকিশোর জেথলিয়া ছিলেন এমন এক বহুমুখী ব্যক্তিত্ব যিনি একাধারে সমাজসেবক, চিন্তাবিদ, প্রাবন্ধিক এবং জাতি গঠনকারী ছিলেন। সমাজের একেবারে প্রান্তিক ও শেষ ব্যক্তির কাছে নিজের ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার নিঃস্বার্থ মানসিকতার জন্যই তাঁকে 'কর্মযোগী' উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল। বিজয় ওঝা তাঁর বিশেষ একটি অভ্যাসের কথা স্মরণ করে জানান, জেথলিয়াজি যাঁর সঙ্গেই সাক্ষাৎ করতেন, জ্ঞানচর্চার প্রতীক হিসেবে তাঁকে সর্বদা একটি করে বই উপহার দিতেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি