
জয়দেব লাহা, দুর্গাপুর, ৩ অক্টোবর( হি: স): উধাও ফুটপাত। গ্যারেজের ভাঙা গাড়ির দখলে আস্ত সড়কেরও একাংশ। আবার কোথাও রাস্তার পাশে পাহাড় প্রমান মজুত করা ভাঙা বাড়ির আবর্জনার স্তুপ। তার জেরে সংকীর্ন হয়েছে রাস্তা। যকন তখন যানজটে নাকাল পথচলতি মানুষ থেকে স্কুল পড়ুয়া। প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।
তার জেরে ক্ষোভ বাড়ছে এলাকায়। পরিত্রানের নামে পরিবর্তনের গালভরা ফিরিস্তিতে বিরক্ত সাধারন মানুষের। এমনই নজিরবিহীন ছবি ধরা পড়ল পানাগড় বাজারে। প্রসঙ্গত, গত ২০১৪ সালে ১৯ নং জাতীয় সড়কের ছয় লেন সম্প্রসারনের কাজ শুরু হয়। প্রথম ধাপে ঝাড়খন্ডের বারোয়াড্ডা থেকে এরাজ্যের পানাগড় ধরলা মোড় পর্যন্ত প্রায় ১২৪ কিলোমিটার। ২০১৮-১৯ সালে সম্প্রসারনের কাজ শেষ হয়। যানজট ঠেকাতে ২ নং জাতীয় সড়ক পানাগড় বাজার বাইপাস করা হয়। কিন্তু তাতেও স্বস্তি ছিল না। রাস্তার দুপাশে ফুটপাত অনেক আগেই দখল হয়েছিল। বাইপাস হওয়ার পর পানাগড় চৌমাথা থেকে আরওবি পর্যন্ত ফুটপাতের নাম নিশান নেই। রনডিহা মোড় এলাকায় গ্যারেজের কাজ উঠে আসে রাস্তার ওপর। আবার আরওবি ওঠার মুখে রাস্তার একাংশ দখল করে লম্বা ভাঙা গাড়ির পার্কিং। কোথাও যন্ত্রাংশ, টায়ারও রাস্তার কিনারাই। আবার কোথাও বাড়ির নির্মান ভাঙা ঢাঁই করে রেখেছে পিচ রাস্তার কিনারাই। ফুটপাত উধাও এমনকি পিচ রাস্তার একাংশ চলে গেছে জবরদখলে। ফলে সংকীর্ন হয়ে পড়েছে মুল রাস্তা। সুষ্ঠভাবে চলাচলের উপায় নেই। সাধারন পথচলতি মানুষ থেকে স্কুল পড়ুয়া নাজেহাল। প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী থেকে যানচালকরা। বাস চালকরা জানান, পানাগড় বাজারে সুষ্ঠভাবে গাড়ি চালানো ঝুঁকিপুর্ন। রাস্তার ওপর যেখানে সেখানে গাড়ি পার্কিং। যখন তখন রাস্তার ওপর ক্রেন দিয়ে ভাঙা গাড়ি স্থানান্তর করে। ফলে চরম সমস্যায় পড়তে হয়। আবার একটু এদিক ওদিকে নামলেই 'চোখরাঙানি' গালিগালাজ শুরু করে। কংগ্রেস নেতা দেবেশ চক্রবর্তী বলেন, কেন? বিজেপি ক্ষমতায় আসলেই বলেছিল সাধারন মানুকে পরিত্রান দেবে। আইনের শাসন হবে। এসব কোথায় গেল? ৫ মাসেই বিজেপির ফানুস চুপসে গেল। রাস্তা যানবাহন চলাচলের। ফুটপাত সাধারন মানুষ চলাচলের। কিন্তু পানাগড় বাজারে ফুটপাত দখল করে ভাঙা গাড়ির কাজ চলে। পথচলতি মানুষের হাঁটার রাস্তা নেই। ফুটপাতে গরিব দোকানদারের ব্যাবসা দেখলে, তাকে তুলতে মন্ত্রী গাড়ি থেকে নেমে পড়ছে। আর প্রভাবশালি ব্যাবসায়ী ফটপাত দখল দেখলে, লেজগুটিয়ে পালাচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে ট্রাফিক পুলিশের ভুমিকায়। যদিও কাঁকসা ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, আজ থেকে তিনদিন মাইকিং করে সতর্ক করা হবে। পুজোয় দর্শনার্থীদের যাতায়াতে যাতে কোনরকম অসুবিধা না হয়, তার জন্য রাস্তার ওপর ও ফুটপাত পরিস্কার রাখতে বলা হবে। দুর্গাপুর পুর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, চার মাসের সরকার। আমরা কথা কম কাজ বেশী করি। দূর্গাপুরজোর আগেই ফুটপাত পরিস্কার করা হবে। আপাতত রাস্তার খানাখন্দ ভরাটের কাজ চলছে। এছাড়াও পানাগড় বাজারের রাস্তা চওড়া হবে। তার প্রস্তাব দেওয়া আছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা