
আগরতলা, ৭ অক্টোবর (হি.স.) : একবার, দু’বার নয়—চাকরির আশায় চার বছর ধরে দফতরের দরজায় ঘুরে এবার ৪০তম বার আইজি প্রিজনের কাছে ডেপুটেশন দিলেন জেল পুলিশের কনস্টেবল সমতুল্য পদে নিয়োগের শারীরিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বেকার যুবকরা। কিন্তু ৪০তম ডেপুটেশনেও লিখিত পরীক্ষা কবে হবে, তার কোনও সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেনি কারা দফতর। ফলে ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কর্মপ্রার্থীদের মধ্যে।
জানা গেছে, কারা দফতরে কনস্টেবল সমতুল্য পদে ২৪৯ জনকে নিয়োগের জন্য প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ২০২২ সালে। তৎকালীন রাজ্য সরকারের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই নিয়োগের জন্য আবেদনপত্র গ্রহণের পর একই বছরের ডিসেম্বর মাসে শারীরিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরীক্ষায় বহু বেকার যুবক অংশগ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে শারীরিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। কিন্তু সেই তালিকা প্রকাশ করতেও লেগে যায় দীর্ঘ সময়। প্রায় চার বছর পর, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে শারীরিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের তালিকা প্রকাশ করা হয়।
এরপরও যেন কাটছে না অপেক্ষার প্রহর। তালিকা প্রকাশের পর প্রায় নয় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে কোনও সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত বা সময়সীমা জানানো হয়নি বলে অভিযোগ কর্মপ্রার্থীদের। নিয়ম অনুযায়ী শারীরিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার পর মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা। কিন্তু সেই লিখিত পরীক্ষাই এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যে।
এই পরিস্থিতিতে দ্রুত লিখিত পরীক্ষা গ্রহণ এবং শূন্য পদে নিয়োগ সম্পন্ন করার দাবিতে একের পর এক ডেপুটেশন দিয়ে আসছেন চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁদের দাবি, এখনও পর্যন্ত আইজি প্রিজনের কাছে ৪০ বার ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছে। বুধবারও ৪০তম ডেপুটেশন কর্মসূচিতে অংশ নেন তাঁরা। অবিলম্বে পরীক্ষার দিনক্ষণ ঘোষণা করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানানো হয়।
তবে অন্যান্যবারের মতো এদিনও লিখিত পরীক্ষা কবে নেওয়া হবে, সে বিষয়ে কোনও সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেনি কারা দফতর। আর এতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন কর্মপ্রার্থীরা। তাঁদের বক্তব্য, বছরের পর বছর ধরে তাঁরা নিয়োগের আশায় অপেক্ষা করছেন। বারবার দফতরে গিয়ে ডেপুটেশন দিলেও সমস্যার কোনও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।
ক্ষুব্ধ কর্মপ্রার্থীদের অভিযোগ, চাকরির দাবিতে তাঁরা কারা দফতরে গেলে তাঁদের জেআরবিটি-র সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। আবার জেআরবিটি থেকে তাঁদের আইজি প্রিজনের অফিসে পাঠানো হয়। এভাবেই এক দফতর থেকে অন্য দফতরে ঘুরতে হচ্ছে তাঁদের। কিন্তু বাস্তবে নিয়োগ প্রক্রিয়া এক ধাপও এগোচ্ছে না বলে অভিযোগ তাঁদের।
কর্মপ্রার্থীদের প্রশ্ন, যখন শারীরিক পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে, উত্তীর্ণদের তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে, তখন লিখিত পরীক্ষা নিতে এত দীর্ঘ সময় লাগছে কেন? চার বছর ধরে একটি নিয়োগ প্রক্রিয়া ঝুলিয়ে রাখার ফলে বহু পরীক্ষার্থীর বয়স বাড়ছে, অনেকের চাকরির সুযোগও হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে দ্রুত পরীক্ষা গ্রহণ না হলে ভবিষ্যতে তাঁরা আরও কঠিন সমস্যার মুখে পড়বেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে কারা দফতরে ২৪৯ জন কারারক্ষী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তের পর আবেদন গ্রহণ এবং শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হলেও পরবর্তী ধাপগুলি কার্যত দীর্ঘসূত্রিতার মধ্যে আটকে রয়েছে বলে অভিযোগ। চার বছর ধরে নিয়োগ প্রক্রিয়া ঝুলে থাকায় সংশ্লিষ্ট বেকার যুবকদের মধ্যে ক্রমশ ক্ষোভ বাড়ছে।
চাকরিপ্রার্থীদের বক্তব্য, তাঁরা কোনও নতুন দাবি করছেন না। সরকারের ঘোষিত নিয়োগ প্রক্রিয়াটিই দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানাচ্ছেন তাঁরা। তাই আর ডেপুটেশন নয়, এবার লিখিত পরীক্ষার নির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঘোষণা করে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। দীর্ঘদিন ধরে ২৪৯টি শূন্য পদ পূরণ না হওয়ায় কারা দফতরের ভূমিকা নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ