
দুর্গাপুর, ৯ অক্টোবর (হি. স.): ভুগর্ভস্ত কয়লাখনিতে জলমগ্ন হওয়ায় সঙ্কটে উৎপাদন। কার্যত বন্ধ ইসিএল-এর কেন্দা এরিয়ার সিঁদুলি কোলিয়ারি উৎপাদন। তার জেরে ভূগর্ভস্থ খনিটির ভবিষ্যৎ অশনি সঙ্কেত দেখা দিয়েছে। তাতেই উদ্বিগ্ন কোলিয়ারির খনিশ্রমিকরা। প্রশ্ন উঠেছে ইসিএল কর্তৃপক্ষের ভূমিকায়।
উল্লেখ্য, গত ৫ অক্টোবর সিঁদুলি কোলিয়ারির ৩ নম্বর পিটে এয়ার ব্লাস্টের দরুন জল হু হু করে জল ঢুকে পড়ে। তার জেরে খনির ভিতর থেকে ধোঁয়া, জল ও গ্যাস বের হতে শুরু করে। সেই সময় খনির গভীরে আটকে ছিলেন দুই খনি শ্রমিক। খনির মধ্যে কাজ করার সময়েই তাঁরা টের পান, খনিতে জল ঢুকছে। তড়িঘড়ি তাঁরা বাইরে বেরিয়ে আসেন। পরে সি়ঁদুলি কোলিয়ারী আশেপাশের বাউরি পাড়া বেদে পাড়া, মাঝি পাড়া এলাকায় ভূমিকম্পের মতো মৃদু কম্পন অনুভব করেন স্থানীয়রা। একটু বেলা গড়াতেই স্থানীয় একটি ফুটবল মাঠের মাটি ফুঁড়ে ফোঁয়রার মত গ্যাস বেরোতে দেখা যায়। গ্রামের আশপাশে ফাটল দিয়ে গ্যাস বেরোনো শুরু হয়। যে জায়গা থেকে গ্যাস বেরোতে দেখা যায়, তার আশেপাশে ইসিএল -এর একটি খোলামুখ খনিও রয়েছে। ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। প্রয়োজনীয় জিনিস সঙ্গে নিয়ে প্রাণভয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন বাসিন্দারা।
ঘটনার পর থেকেই কোলিয়ারি সংলগ্ন জনবসতি এলাকাতেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সূত্রে জানা গেছে, পার্শ্ববর্তী পরিত্যক্ত শঙ্করপুর ওসিপি থেকে প্রায় ৩১৫ মিলিয়ন গ্যালন জল ওই খনিটিকে প্লাবিত করেছে। শঙ্করপুর ওসিপি-তে যে এলাকা থেকে জল এসেছে, সেখানে ১৯৩০-এর দশকে ভূগর্ভস্থ খনিতে কয়লা খনন করা হতো। ওই জল কিভাবে সিঁদুলি খনির পিঠে ঢুকল তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। তাহলেকে খনি নিরাপত্তায় নজরদারির গাফিলাতি রয়েছে? ইতিমধ্যে কেন্দা আঞ্চলিক কার্যালয়ে খনির নিরাপত্তা নিয়ে জেসিসি মিটিং হয়। তাতে শ্রমিক ইউনিয়নগুলো ব্যবস্থাপনার কার্যপদ্ধতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সিদুলি কোলিয়ারির বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য প্রদানের জন্য ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এই সভাটি ডেকেছিল। ইউনিয়নগুলি কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ ও খনিটি পুনরায় চালুর দাবী জানান। জানা গেছে, ওই খনিতে দৈনিক ২২০ টন কয়লা উৎপাদন হত। খনিটিতে ৩১৫ মিলিয়ন গ্যালন জমে যাওয়ায় জল নিষ্কাশন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। খনিটির ভবিষ্যৎ উৎপাদন কার্যত অনিশ্চিত বলে আশঙ্কা শ্রমিকমহলে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশাল ভূগর্ভস্থ জলস্তর অপসারণ করা প্রযুক্তিগতভাবে এবং সময়গতভাবে উভয় দিক থেকেই সহজ হবে না। কেন্দা এরিয়ার জিএম দীনেশ শর্মা বলেন, সিদুলি কোলিয়ারির বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে শ্রমিক প্রতিনিধিদের অবহিত করার জন্য এরিয়া জেসিসি সভা ডাকা হয়েছিল। খনির নিরাপত্তা ব্যাবস্থা খতিয়ে দেখছে ডিজাস্টার ম্যানেজম্যান্ট। তাদের রিপোর্টের পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা