
নয়াদিল্লি, ৯ অক্টোবর (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) সংক্রান্ত মামলার শুনানি আগামী ১৬ অক্টোবর করবে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানিয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া এবং সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আবেদন করা ভোটারদের রাজ্যের আসন্ন পুরসভা নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অনুমতি দেওয়া উচিত কি না, সে বিষয়ে ওই দিন বিবেচনা করা হবে।
শুক্রবার শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, আদালত দুটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে বিবেচনা করছে। প্রথমত, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা আবেদনগুলি আপাতত পিছিয়ে রেখে শুনানির শেষ পর্যায়ে নেওয়া যায় কি না। আদালতকে জানানো হয়েছে, ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য দায়ের করা এক লক্ষেরও বেশি আবেদনের নিষ্পত্তি হয়েছে। আবেদনকারীদের ৯৩ শতাংশকে যোগ্য বলে বিবেচনা করা হয়েছে। তবে এখনও প্রায় ১.৭০ লক্ষ আবেদন বিচারাধীন রয়েছে।
শুনানিতে প্রবীণ আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন আবেদন জানান, যে সমস্ত পুরসভায় নভেম্বরে নির্বাচন হওয়ার কথা, সেখানকার ভোটারদের আবেদনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হোক। তাঁর বক্তব্য, এই আবেদনগুলির নিষ্পত্তি করতে ট্রাইব্যুনালের যথেষ্ট সময় লাগবে। পাশাপাশি, ১৫ নভেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের ঘোষণা হওয়া উচিত বলেও তিনি উল্লেখ করেন। আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ বলেন, যেসব ভোটারের আবেদনের বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, তাঁরা আসন্ন নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
এর আগে গত ১১ আগস্ট ট্রাইব্যুনালের কাজের গতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল সুপ্রিম কোর্ট। আদালত বলেছিল, ট্রাইব্যুনালের কাজকর্ম পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। একই গতিতে আবেদনের শুনানি চলতে থাকলে নিষ্পত্তি শেষ হওয়ার আগেই পরবর্তী নির্বাচন এসে যাবে বলেও পর্যবেক্ষণ করেছিল আদালত।
কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী এই মামলা দায়ের করেছেন। শুনানিতে তাঁর পক্ষের আইনজীবী আবেদন নিষ্পত্তির গতি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। নথি দেখিয়ে তিনি জানান, তাঁর নিজের আবেদনও এখনও বিচারাধীন। এর ফলে তিনি রেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রাপ্য খাদ্যশস্য পাচ্ছেন না বলে দাবি করেন। এই প্রসঙ্গে বিচারপতি বাগচি প্রশ্ন করেন, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার কারণে রাজ্য সরকার কি কাউকে রেশন দিতে অস্বীকার করতে পারে? ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তগুলির উপরও নজর রাখা হবে বলে জানিয়েছিল আদালত।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রত্যন্ত এলাকায় পরিকাঠামোর অভাবের কারণে সেখানকার বাসিন্দাদের শুনানিতে অংশ নিতে কলকাতায় পৌঁছনো অত্যন্ত কঠিন। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনকে ট্রাইব্যুনালে এখনও পর্যন্ত কতগুলি মামলা জমা পড়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য পেশ করার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য