
নয়াদিল্লি, ৩ নভেম্বর (হি.স.) : সোমালিয়া উপকূলের কাছে ৪৮ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে টানা চালানো এক দুঃসাহসিক অভিযানে কমান্ডো আক্রমণ চালিয়ে সশস্ত্র জলদস্যুদের কবজা থেকে অপহৃত মাছ ধরার জাহাজ 'অজিনী'-কে মুক্ত করল ভারতীয় নৌসেনা। জাহাজে থাকা কর্মীদলের (ক্রু) ২০ জন সদস্যকেই সম্পূর্ণ অক্ষত ও সুরক্ষিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পরিচালিত এই অভিযানে নৌসেনার কোনো সদস্য বা জাহাজের কর্মীদের কোনো ক্ষতি হয়নি।
উল্লেখ্য, গত মাসের শুরুর দিকে সোমালিয়ার উত্তর-পূর্ব উপকূলের কাছে একদল সশস্ত্র জলদস্যু মাছ ধরার ওই জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নেয়। এই হাইজ্যাকিং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক বিরাট হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল, কারণ আশঙ্কা করা হচ্ছিল জলদস্যুরা এটিকে 'মাদার শিপ' (মাঝদরিয়ায় অন্য বাণিজ্য জাহাজে হামলার মূল ঘাঁটি) হিসেবে ব্যবহার করে ভারত মহাসাগরে আরও বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে। ঘটনাটির খবর পাওয়ামাত্রই ভারতীয় নৌসেনা আন্তর্জাতিক সীমান্ত ও সমুদ্রে টহলরত একটি যুদ্ধজাহাজকে অবিলম্বে ঘটনাস্থলের দিকে রওনা করে। অভিযানে ভারতীয় বায়ুপোনের বিশেষ সামুদ্রিক নজরদারি বিমানকেও কাজে লাগানো হয়।
নৌসেনার মুখপাত্র ক্যাপ্টেন বিবেক মধওয়াল জানান, জলবায়ু ও ভৌগোলিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও যৌথ সমন্বয়ের মাধ্যমে নজরদারি চালিয়ে দ্রুত অপহৃত জাহাজটির অবস্থান চিহ্নিত করা হয় এবং তার গতিবিধির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখা হয়। ভারতীয় নৌসেনা প্রথমেই জাহাজটিকে পালানোর পথ থেকে রুখে দিতে এবং এর গতিবিধি সীমিত রাখতে এক সুপরিকল্পিত অ-ঘাতক সামুদ্রিক কৌশল অবলম্বন করে। এরপর অত্যন্ত দ্রুততা ও সুসংগঠিত পরিকল্পনার মাধ্যমে ভারতীয় নৌসেনার মারিন কমান্ডোরা কৌশলগত অভিযান চালিয়ে পুরো জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেন।
অভিযান চলাকালীন ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি সি-১৭ ভারী পরিবহন বিমান থেকে সুনির্দিষ্ট এয়ারড্রপের মাধ্যমে সাগরের বুকে সোজা মারিন কমান্ডোদের অবতরণ করানো হয়। কমান্ডোদের এই বিদ্যুৎগতির আক্রমণের সামনে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয় সশস্ত্র জলদস্যুরা। অবশেষে জলদস্যুদের সমস্ত হুমকি নিষ্ক্রিয় করে জাহাজের ২০ জন ক্রু সদস্যকেই নিরাপদ ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
নৌসেনার এই সফল ও সাহসিক অভিযান ভারতীয় নৌসেনার উচ্চতর পেশাদারিত্ব, তাৎক্ষণিক যুদ্ধের প্রস্তুতি এবং বিভিন্ন সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে আন্তঃসম্পর্কীয় সমন্বয় সাধনকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, পুরো ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারত অন্যতম প্রাথমিক সাড়াদানকারী এবং শীর্ষ নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে নিজের প্রতিশ্রুতিতে কতটা অবিচল। ভারতীয় নৌসেনা যেকোনো মূল্যে নাবিকদের জীবনরক্ষা, আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথের নিরাপত্তা এবং ভারত মহাসাগরে একটি সুরক্ষিত ও স্থিতিশীল সামুদ্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে সর্বদা বদ্ধপরিকর।
হিন্দুস্থান সমাচার / Sachin Budhauliya