খরা মোকাবিলায় কেন্দ্র পাশে রয়েছে : মহারাষ্ট্রের কৃষকদের আশ্বস্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী
পুনে, ৩ নভেম্বর (হি.স.) : মহারাষ্ট্রের খরা কবলিত কৃষকদের বড়সড় আশ্বাসের বাণী শুনিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মঙ্গলবার স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন যে, রাজ্যের বর্তমান খরা পরিস্থিতি সম্পর্কে কেন্দ্র সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল। কৃষকদের এই সংকটজনক অবস্থা থেকে ঘুরে দ
প্রধানমন্ত্রী মোদী


পুনে, ৩ নভেম্বর (হি.স.) : মহারাষ্ট্রের খরা কবলিত কৃষকদের বড়সড় আশ্বাসের বাণী শুনিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মঙ্গলবার স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন যে, রাজ্যের বর্তমান খরা পরিস্থিতি সম্পর্কে কেন্দ্র সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল। কৃষকদের এই সংকটজনক অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। এদিন তিনি জানান যে, রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই কৃষকদের অগ্রিম আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে। এর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে ‘পিএম কিষাণ সম্মান নিধি’ প্রকল্পের মাধ্যমেও কৃষকদের হাতে আর্থিক সাহায্য পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

হিনজেওয়াড়ি-শিবাজী নগর মেট্রো প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে পুনেতে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী। এদিন তিনি নিজের বক্তব্যের শুরুতে মারাঠি ভাষায় ভাষণ দিয়ে সমস্ত মহারাষ্ট্রবাসীকে দীপাবলির প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানান। মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে চলা খরা পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের খরার বিষয়টি আমার সম্পূর্ণ জানা আছে। রাজ্য সরকার কৃষকদের অগ্রিম সাহায্য দিয়েছে। আমিও ‘পিএম কিষাণ’-এর কিস্তির অর্থ পাঠিয়ে দিয়েছি। দেশের অন্নদাতারা, আপনারা একটুও চিন্তা করবেন না। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের বিচক্ষণ নেতৃত্বে মহারাষ্ট্রে জল সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বেশ কিছু যুগান্তকারী কাজ হয়েছে। তবে পরিবেশগত চ্যালেঞ্জগুলি এখনও বেশ বড় এবং সেগুলি মোকাবিলা করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকেও সবরকম সাহায্য করা হবে।

উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান

এদিনের মঞ্চ থেকে দেশবাসীর উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উৎসবের এই আনন্দমুখর সময়ে সমাজের সেই সমস্ত মানুষের কথা ভুলে গেলে চলবে না, যাঁরা নানা প্রতিকূলতা ও কষ্টের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। উৎসব উদযাপনের পাশাপাশি খরাকবলিত চাষি ভাইদের এবং অন্যান্য অভাবী মানুষদের দিকেও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আবেদন জানান তিনি। সমাজজীবনে পারস্পরিক সহানুভূতি ও সংহতি বজায় রাখার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল জিষ্ণু দেব বর্মা, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনোহর লাল, মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নিবিশ, উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে ও সুনেত্রা পাওয়ার, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মুরলীধর মোহোল, মন্ত্রী চন্দ্রকান্ত পাতিল, রাজ্য মন্ত্রী মাধুরী মিসাল, পুনের মেয়র মঞ্জুষা নাগপুরে এবং পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড়ের মেয়র রবি লাডগে সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

২০৩০ সালের মধ্যে দেশের অন্যতম প্রধান পরিবহণ কেন্দ্র হবে পুনে: ফড়নিবিশ

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নিবিশ জানান যে, হিনজেওয়াড়ি আইটি পার্কের সঙ্গে যুক্ত হাজার হাজার কর্মীকে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিদিন দীর্ঘক্ষণ ট্রাফিক জ্যামের জেরে ভোগান্তির শিকার হতে হতো। তাই হিনজেওয়াড়ি থেকে শিবাজী নগর পর্যন্ত নতুন মেট্রো পরিষেবা চালুর জন্য মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর করকমলে এই মেট্রো পথের উদ্বোধন পুনেবাসীর কাছে এক পরম আনন্দের মুহূর্ত। তিনি জানান যে, কেন্দ্র সরকারের অবিরাম সহযোগিতায় পুনেতে একাধিক বড় মাপের উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই সমস্ত প্রকল্পের হাত ধরেই ২০৩০ সালের মধ্যে পুনে ও পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় অঞ্চলকে দেশের একটি প্রধান পরিবহণ হাব হিসেবে গড়ে তোলার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এর ফলে যাতায়াত যেমন সহজ হবে, তেমনই আইটি, ইলেকট্রনিক্স ও অটোমোবাইল শিল্প আরও গতি পাবে এবং দেশের অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।

মহারাষ্ট্রের ১২টি শহরে চলছে মেট্রো প্রকল্প

মুখ্যমন্ত্রী ফড়নিবিশ আরও জানান যে, বর্তমানে দেশের বৃহত্তম মেট্রো নেটওয়ার্কটি গড়ে উঠছে মহারাষ্ট্রেই। রাজ্যের মোট ১২টি মহানগরে মেট্রো রেলের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। মেট্রো পরিষেবার এই ব্যাপক সম্প্রসারণের ফলে ওই শহরগুলির অর্থনৈতিক কাঠামোর আমূল পরিবর্তন ঘটবে। তিনি আরও যোগ করেন যে, কেন্দ্র সরকারের জনকল্যাণমূলক নীতিতে সমাজের অন্তিম ব্যক্তির উন্নয়নকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একদিকে যেমন দেশজুড়ে আধুনিক সেতু, রেললাইন, মেট্রো ও ফ্লাইওভারের মতো মেগা পরিকাঠামো তৈরি হচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে দরিদ্রতম মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে একাধিক পরিকল্পনা রূপায়ণ করা হচ্ছে। এই সুদূরপ্রসারী প্রচেষ্টার ফলেই দেশজুড়ে দরিদ্র সীমার নিচে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande