
উত্তরকাশী, ৩ নভেম্বর (হি.স.) : উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশীর কেদারতাল ট্রেকের কঠিন পথে ভারী তুষারপাত ও ভয়াবহ হিমালয়ীয় তুষারধসের (এভালাঞ্চ) কবলে পড়ে নিখোঁজ হওয়া আট ট্রেকার ও গাইডকে উদ্ধারে নামা যৌথ রেসকিউ টিম মঙ্গলবার বড়সড় সাফল্য পেল। এসডিআরএফ এবং নেহরু ইনস্টিটিউট অফ মাউন্টেনিয়ারিং -এর যৌথ দল বরফ খুঁড়ে এক মহিলা ও এক পুরুষের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। তবে এখনও পর্যন্ত মৃতদেহ দুটির কোনো আনুষ্ঠানিক শনাক্তকরণ করা সম্ভব হয়নি। বাকি ছয়জন নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে তল্লাশি অভিযান জোরকদমে অব্যাহত রয়েছে।
এদিন সকাল থেকেই এসডিআরএফ ও নিমের যৌথ দল নির্দিষ্ট সম্ভাব্য স্থানগুলিতে নতুন করে উদ্ধারকাজ শুরু করে। দীর্ঘ তল্লাশির একপর্যায়ে তুষারস্তূপের নিচে ঢাকা অবস্থায় দুটি মৃতদেহ দেখতে পান উদ্ধারকারীরা। প্রবল প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বরফের নিচ থেকে মৃতদেহ দুটি বাইরে নিয়ে আসা হয়। মঙ্গলবার দুপুর প্রায় তিনটা পর্যন্ত এই অভিযান চালিয়ে উদ্ধারকারী দল বেস ক্যাম্পে ফিরে আসে। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে আগামী বুধবার সকাল থেকে ফের নতুন উদ্যমে উদ্ধার অভিযান চালানো হবে।
উল্লেখ্য, কেদারতালের এই উদ্ধার অভিযান আরও দ্রুততর করতে এবং প্রয়োজনে আকাশপথে জরুরি সাহায্য বা এয়ারলিফটের ব্যবস্থা করতে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি প্রায় ৪,০০৫ মিটার উচ্চতায় একটি বিকল্প হেলিপ্যাডও তৈরি করে রাখা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের এই তালিকায় মোট সাতজন ট্রেকার ও একজন স্থানীয় গাইড রয়েছেন। নিখোঁজ পর্যটকদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের পাঁচজন হলেন— তপস বাউরি, রতন ঘোষ, মনোজ খোওয়াস, রিন্টু মণ্ডল এবং উদয় ঘোষ। এছাড়াও উত্তরপ্রদেশের দুই ট্রেকার বর্তিকা বর্মা ও দীপিকা বর্মা এই তালিকায় রয়েছেন। নিখোঁজ অষ্টম ব্যক্তি তথা গাইড হলেন উত্তরকাশীর স্থানীয় বাসিন্দা সিদ্ধার্থ রানা।
প্রসঙ্গত, গত গত ২৭ অক্টোবর উত্তরকাশীর গঙ্গোত্রী থেকে সাতজন ট্রেকার ও পাঁচজন সহায়ক কর্মী সহ মোট ১২ জনের একটি দল কেদারতাল ট্রেকের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। পরবর্তীতে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে বিপর্যয় নেমে এলে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী তিন জন পোর্টার ও এক জন রাঁধুনি সহ মোট চারজনকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। কিন্তু বাকি সাতজন ট্রেকার ও এক গাইড সহ মোট আটজন ট্রেকার আকস্মিক ভারী তুষারপাত ও তুষারধসের কবলে পড়ে নিখোঁজ হয়ে যান।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি