
গুয়াহাটি, ১৬ ফেব্ৰুয়ারি (হি.স.) : অসম প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি ভূপেন কুমার বরার পদত্যাগ কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, ‘একটি প্রতীকী বার্তা’। কংগ্রেসের অন্দরে আরও অস্থিরতা তৈরি হবে, বলেছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা।
আজ সোমবার মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা বলেন, অসম প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি ভূপেন কুমার বরার পদত্যাগ আসলে এমন এক বার্তা বহন করছে, যা দলটির সাধারণ পরিবার ও হিন্দু সমাজের নেতাদের প্রতি অবহেলার প্রতিফলন। ভূপেন বরার ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস থেকে ইস্তফার প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ড. শর্মা অভিযোগ করেন, অসম কংগ্রেস ক্রমশ তুষ্টিকরণের রাজনীতির দিকে ঝুঁকছে। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্বকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে প্রদেশ কংগ্রেস।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ভূপেন বরাই ছিলেন অসম কংগ্রেসের শেষ প্রভাবশালী হিন্দু নেতা, যিনি বিধায়ক বা মন্ত্রী নন। তাঁর প্রস্থান কংগ্রেসের ঐতিহ্যগত সমর্থকভিত্তির মধ্যে বাড়তে থাকা অসন্তোষেরই ইঙ্গিত দেয়, বলেন ড. শর্মা।
হিমন্তবিশ্বের ইঙ্গিত, ভূপেনের পদত্যাগ কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নাও হতে পারে। তাঁর মতে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তৃণমূল স্তর থেকে শুরু করে কয়েকজন বর্তমান বিধায়কও কংগ্রেস ছাড়বেন, যা বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলটির অস্থিরতা আরও বাড়াবে।
তবে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, কংগ্রেস থেকে কেউ দলত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দিতে চাইলে তা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বিবেচনা করতে হবে। আসন সমঝোতা ও আসন্ন নির্বাচনের বিষয়টি মাথায় রেখে কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ড. শর্মা আরও জানান, অতীতে ভূপেন বরাকে বিজেপিতে আনার চেষ্টা হয়েছিল। তিনি শীঘ্রই বরার বাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও জানান, যা অসমের রাজনীতিতে সম্ভাব্য সমীকরণ পরিবর্তনের জল্পনা আরও উসকে দিয়েছে।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভূপেন বরার পদত্যাগে তিনি বিস্মিত নন। আগামীকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভূপেন বরার বাসভবনে গিয়ে তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করবেন। এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই বরাকে জানানো হয়েছে এবং তিনি তা স্বাগত জানিয়েছেন বলেও জানান ড. শর্মা।
তবে আপাতত ভূপেন বরা বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন, এমন কোনও নিশ্চিত তথ্য নেই বলে স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বরার সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা সময় ও অবকাশের প্রয়োজন হতে পারে।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গ টেনে ড. শর্মা বলেন, তিনি কংগ্রেসে ২২ বছর ছিলেন। তারপর দল ছেড়েছেন। অন্যদিকে ভূপেন বরা আরও ১০ বছর বেশি সময় কংগ্রেসে ছিলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস