অমৃত ভারত স্টেশন স্কিমের মাধ্যমে অসম সহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে রেলওয়ের পরিকাঠামোর রূপান্তর
গুয়াহাটি, ১৬ ফেব্ৰুয়ারি (হি.স.) : রেলমন্ত্রালয় ভারতীয় রেলওয়েতে আধুনিক, যাত্রী-বান্ধব রেল পরিকাঠামোর এক নতুন যুগের সূচনা করার জন্য অমৃত ভারত স্টেশন স্কিম (এবিএসএস) চালু করেছে। এই স্কিমের অধীনে দীর্ঘ মেয়াদী, পর্যায়ক্রমে রেলওয়ে স্টেশনগুলির ব্যাপক
হয়বরগাঁও রেলওয়ে স্টেশন


গুয়াহাটি, ১৬ ফেব্ৰুয়ারি (হি.স.) : রেলমন্ত্রালয় ভারতীয় রেলওয়েতে আধুনিক, যাত্রী-বান্ধব রেল পরিকাঠামোর এক নতুন যুগের সূচনা করার জন্য অমৃত ভারত স্টেশন স্কিম (এবিএসএস) চালু করেছে। এই স্কিমের অধীনে দীর্ঘ মেয়াদী, পর্যায়ক্রমে রেলওয়ে স্টেশনগুলির ব্যাপকভাবে বিকাশ করার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে প্রতিটি নির্বাচিত স্টেশনের জন্য বিস্তারিত মাস্টার প্ল্যান প্রস্তুত করা হবে এবং যাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা ও পরিকাঠামো উন্নত করার জন্য পদ্ধতিগতভাবে বাস্তবায়িত করা হবে।

উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা আজ সোমবার এক প্রেস বিবৃতিতে জানান, এই স্কিমের অধীনে স্টেশন অ্যাক্সেস এবং চলাচলের জায়গা উন্নত করা, অপেক্ষা কক্ষ এবং শৌচাগার উন্নত করা, যেখানে প্রয়োজন সেখানে লিফট এবং এসকেলেটর স্থাপন করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বৃদ্ধি করা এবং বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা প্রদানের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। আধুনিক প্যাসেঞ্জার ইনফৰ্মেশন সিস্টেম, এগজিকিউটিভ লাউঞ্জ, বিজনেস মিটিং-এর জন্য নির্দিষ্ট স্থান, ল্যান্ড স্ক্যাপিং এবং উন্নত স্টেশন সম্মুখ ভাগ, পুনর্বিকাশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই স্কিম 'এক স্টেশন এক পণ্য' কিয়স্কের মতো পদক্ষেপের মাধ্যমে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করেছে। যার ফলে স্থানীয় জনসাধারণের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি হয়।

অমৃত ভারত স্টেশন স্কিম উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের আওতাধীন অসম সহ সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রেলওয়ে ভূদৃশ্যকে পুনরায় সংজ্ঞায়িত করছে। উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে জোনে পুনর্বিকাশের জন্য মোট ৯২টি স্টেশন চিহ্নিত করা হয়েছে। যার মধ্যে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৬০টি স্টেশন এই স্কিমের আওতায় নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে অসমের ৫০টি স্টেশন, ত্রিপুরায় চারটি এবং সিকিম, মেঘালয়, অরুণাচল প্রদেশ, মণিপুর, মিজোরাম ও নাগাল্যান্ডের প্রতিটিতে একটি করে স্টেশন রযেছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে অসম এই অঞ্চলের সবচেয়ে বেশি লাভান্বিত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যেখানে পুনর্বিকাশের কাজ প্রধান নগরকেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক শহর উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

হয়বরগাঁও রেলওয়ে স্টেশনটি অসমের প্রথম সম্পূর্ণ অমৃত ভারত স্টেশনে পরিণত হয়েছে এবং মে ২০২৫-এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এটি উদ্বোধন করেছেন। পুনর্নির্মিত এই স্টেশনটি যাত্রী সুযোগ-সুবিধা, পরিকাঠামো এবং ডিজাইনের ক্ষেত্রে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। বিরাসত ভি বিকাশ ভি নীতির ওপর নির্মিত এই স্টেশনটি আধুনিক সুযোগ-সুবিধাগুলিকে অসমিয়া সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের সাথে নির্বিঘ্নে মিশ্রিত করেছে। এটি কেবল একটি ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবেই নয়, দিব্যাঙ্গজনের জন্য সঠিক পরিকাঠামো সহ বিশ্বমানের সুযোগ-সুবিধাযুক্ত একটি প্রাণবন্ত শহর কেন্দ্র হিসেবে ডিজাইন করা হয়েছে।

অসমে, একাধিক ডিভিশনে কাজের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের অধীনে ফকিরাগ্রাম স্টেশন ৮৮ শতাংশ, কোকরাঝাড় ৭৮ শতাংশ, ধুবড়ি ৮০ শতাংশ এবং গৌরীপুর ৮২ শতাংশ কাজ সম্পূর্ণ করেছে। রঙিয়া ডিভিশনের অধীনে মাজবাট রেলওয়ে স্টেশন ৯৮ শতাংশ সম্পূর্ণ হয়েছে, যেখানে বিশ্বনাথ চারিয়ালি স্টেশন ৯৭ শতাংশ অগ্রগতি অর্জন করেছে। লামডিং ডিভিশনের অধীনে চাপরমুখ স্টেশন ৮৫ শতাংশ অগ্রগতি অর্জন করেছে। এদিকে, তিনসুকিয়া ডিভিশনের উত্তর লখিমপুর স্টেশন এবং শিমলুগুড়ি জংশন প্রতিটি ৬৫ শতাংশ ভৌত অগ্রগতি অর্জন করেছে। মেঘালয়ে, রঙিয়া ডিভিশনের অধীনে মেন্দিপথার স্টেশনের পুনর্বিকাশে ৭৩ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে।

অমৃত ভারত স্টেশন স্কিম, দ্রুতভাবে উন্নয়নশীল দেশের চাহিদা পূরণ করার জন্য ভারতের রেলওয়ে পরিকাঠামোকে রূপান্তরিত করার দিকে একটি বড় পদক্ষেপ। আপগ্রেডেড স্টেশনগুলি নতুন কর্মসংস্থান ও ব্যবসার সুযোগ তৈরি করবে, ভ্রমণের সুবিধা বৃদ্ধি করবে এবং আশপাশের অঞ্চলগুলির জন্য আর্থ-সামাজিক কার্যকলাপের কেন্দ্র হিসাবে আবির্ভূত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। উন্নত সংযোগ ব্যবস্থা, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা এবং আঞ্চলিক পরিচয় সংরক্ষণের মাধ্যমে এই স্কিম অসম সহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত উন্নয়ন অর্জনের সরকারের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি প্রতিফলিত করে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande