
কলকাতা, ৩ ফেব্রুয়ারি (হি. স.) : দক্ষিণ কলকাতার গোলপার্ক এলাকায় দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ ও বোমাবাজির ঘটনায় আরও চারজনকে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশ। এই নিয়ে রবিবার রাতের ওই ঘটনায় ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৪। তবে ঘটনার মূল অভিযুক্ত বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে ‘সোনা পাপ্পু’ এখনও পলাতক। মঙ্গলবার পুলিশের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার রাতে রবীন্দ্র সরোবর থানার কাঁকুলিয়া রোড এলাকায় ভয়াবহ হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, সোনা পাপ্পু ও তার দলবল এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতেই এই হামলা চালিয়েছিল। ঘটনার পরেই এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছে ওই মূল অভিযুক্ত। কলকাতার নতুন পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকার সোমবারই কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছিলেন যে, হিংসায় জড়িত কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না।
পুলিশ জানিয়েছে, সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে আগে খুনের মামলাসহ একাধিক অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে। আগে সোনার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকায় তার নামে ‘সোনা’ শব্দটি জুড়ে যায়। বর্তমানে সে কসবা এলাকায় প্রোমোটিং বা রিয়েল এস্টেট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। রবিবার রাতের ঘটনার পর রবীন্দ্র সরোবর থানায় মোট তিনটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে একটি পুলিশের গাড়িতে হামলার ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা।
রবিবার রাতেই ১০ জনকে গ্রেফতার করে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হয়েছিল। এরপর সোমবার রাতে তল্লাশি চালিয়ে কসবা এলাকা থেকে বাবলু সাউ ওরফে ‘চিনি’ এবং ইন্দ্রজিৎ মাজি ওরফে ‘ছোটো বাবু’-কে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া আনন্দপুর এলাকা থেকে জয়ন্ত নস্কর ওরফে ‘সোনু’ এবং লেক থানা এলাকা থেকে দেবাশিস মণ্ডল ওরফে ‘ভুট্টু’-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ গোলপার্কের পঞ্চাননতলা এলাকায় একটি ক্লাবের পিকনিক চলাকালীন বিবাদের সূত্রপাত হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ী বাপি হালদারের সমর্থক এবং সোনা পাপ্পুর অনুগামীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। অভিযোগ, অন্তত ১০০ থেকে ১৫০ জন দুষ্কৃতী মুখ ঢেকে এলাকায় ঢুকে এলোপাথাড়ি গুলি ও বোমা ছুড়তে শুরু করে। এই তাণ্ডবে পুলিশের গাড়ি এবং স্থানীয়দের মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোল ও বোমার অবশেষ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মূল অভিযুক্ত সোনা পাপ্পুকে ধরতে পুলিশ বর্তমানে বিভিন্ন এলাকায় লাগাতার তল্লাশি চালাচ্ছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি