
গুয়াহাটি, ১১ মাৰ্চ (হি.স.) : রাজ্যের অন্যতম পাহাড়ি জেলা কার্বি আংলঙের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে আজ বুধবার মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা জেলার পরিকাঠামো ও জনসেবা খাতে আমূল পরিবর্তন আনতে সক্ষম একাধিক বৃহৎ উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেছেন। তারালাংসোতে অনুষ্ঠিত এক বিশাল অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ৮১৬ কোটি টাকার ৫৪টি প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ১,২৯৩ কোটির বেশি ব্যয়ে প্রাস্তাবিত ৫৩টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন।
এই বিশাল উন্নয়ন যাত্রার অংশ হিসেবে শহরের যানবাহন চলাচল সহজ করতে মুখ্যমন্ত্রী ডিফুতে ১.২ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেন বিশিষ্ট খরসি তেরন ইংজারকাপ উড়ালপুলের উদ্বোধন করেছেন। ২২৮ কোটি টাকায় নির্মিত এই উড়ালপুলটি কার্বি আংলং স্বশাসিত পরিষদের প্রথম মুখ্য কার্যনির্বাহী সদস্য প্রয়াত খরসিং তেরনের নামে উৎসর্গ করা হয়েছে। এই আধুনিক পরিকাঠামো ডিফু শহরের যানজট সমস্যা কমানোর পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।
একইভাবে পাহাড়ি জেলার স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও শক্তিশালী করতে ২৭০ কোটি টাকায় নির্মিত ডিফু ক্যানসার চিকিৎসা কেন্দ্র আজ জনগণের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়েছে। এখানে লিনিয়াক মেশিন, এমআরআই, পেট-সিটি সহ আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা থাকবে। ফলে এই অঞ্চলের ক্যানসার রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য আর মুম্বাই, চেন্নাই বা গুয়াহাটি যেতে হবে না, তাঁরা বাড়ির কাছেই উন্নত চিকিৎসা পাবেন। এ ছাড়াও ডিফুতে একটি নতুন বিএসসি নার্সিং কলেজ স্থাপনের ঘোষণাও করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে কার্বি আংলঙের লংভকুতে অসমের দ্বিতীয় সৈনিক স্কুল নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন। ৩৬৫ কোটি টাকায় প্রস্তাবিত এই বিদ্যালয়ের কাজ আগামী তিন বছরের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য কাজিরঙার কুঠরী থেকে ডকমকা পর্যন্ত ২৯৯ কোটি টাকায় নতুন সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে। পাশাপাশি খেরনি-জিরিকিন্দিং এবং ধনশিরি-ডিফু সংযোগকারী সড়কের উদ্বোধন করা হয়েছে আজ। এছাড়া পশ্চিম কার্বি আংলঙে একটি আদর্শ স্নাতক মহাবিদ্যালয় উদ্বোধন এবং ডিফু ক্রীড়া সংস্থার মাঠে একটি সুইমিং পুলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী কার্বি আন্দোলনে শহিদ ব্যক্তিদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা করে এককালীন আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন। পাশাপাশি প্রথম পর্যায়ে সাহায্য না পাওয়া কার্বি কুরুচাদেরও ১০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কার্বি আংলঙের উন্নয়নের জন্য আজকের দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, গুয়াহাটির মতো শহরে যেমন উড়ালপুল তৈরি হয়, তেমনই এখন ডিফুর মতো পাহাড়ি এলাকায়ও আধুনিক উড়ালপুল নির্মাণ হচ্ছে, যা জেলার দ্রুত পরিবর্তনের প্রতীক।
ক্যানসার হাসপাতালের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখন থেকে পাহাড়ি জেলার রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বাইরে যেতে হবে না, ডিফুতেই তাঁরা উন্নত পরিষেবা পাবেন।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে এমন বৃহৎ প্রকল্পের কথা কল্পনাও করা যেত না। সড়ক যোগাযোগের প্রসঙ্গে তিনি জানান, কাজিরঙার কুঠরী থেকে ডকমকা পর্যন্ত নির্মীয়মাণ সড়কটি যাতায়াতের দূরত্ব অনেকটাই কমিয়ে দেবে।
মুখ্যমন্ত্রী স্বশাসিত পরিষদের মুখ্য কার্যনির্বাহী সদস্য তুলিরাম রংহাঙের নেতৃত্বে পরিষদের কাজেরও প্রশংসা করে বলেন, রাজ্য সরকার কার্বি আংলঙের উন্নয়নে সবসময় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এক হাজার কোটিরও বেশি ব্যয়ের এই প্রকল্পগুলি জেলার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করবে বলেও তিনি বলেন।
আজকের অনুষ্ঠানে কার্বি আংলং স্বশাসিত পরিষদের মুখ্য কার্যনির্বাহী সদস্য তুলিরাম রংহাং, অসম বিধানসভার উপাধ্যক্ষ ডা. নোমল মোমিন, জেলার অভিভাবক মন্ত্রী নন্দিতা গার্লোসা, পরিষদের অধ্যক্ষ রাজু টিসু, উপাধ্যক্ষ অভিজিৎ ক্রো, বিধায়ক বিদ্যাসিং ইংলেং, দরসিং রংহাং, রূপসিং তেরন, প্রাক্তন সাংসদ হরেন সিং বে সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি, পরিষদের প্রধান সচিব, জেলাশাসক এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় অসংখ্যা জনতা উপস্থিত ছিলেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস