
গুয়াহাটি, ১১ মাৰ্চ (হি.স.) : রাজ্যের যুবসমাজকে আত্মনির্ভর করে গড়ে তোলার দূরদর্শী উদ্যোগের অংশ হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা আজ বুধবার খানাপাড়ার পশুচিকিৎসা বিজ্ঞান মহাবিদ্যালয় ময়দানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘মুখ্যমন্ত্রীর আত্মনির্ভর অসম অভিযান ১.০’-এর অধীনে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা বিতরণ করেছেন। আজকের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী ১২,৯৭৬ জন সফল উদ্যোক্তার মধ্যে ১৩১ কোটিরও বেশি টাকা বিতরণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সমাবেশে প্রদত্ত ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী ড. শর্মা বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর আত্মনির্ভর অসম অভিযান ১.০’-এর অধীনে দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ বিতরণের দিনটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। তিনি বলেন, সাধারণভাবে মনে করা হয়, অসমে সরকারের প্রদত্ত অর্থের সঠিক ব্যবহার হয় না। কিন্তু এই ধারণার বিপরীতে প্রথম কিস্তির অর্থ-প্রাপ্ত বহু উদ্যোক্তা সেই অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার করে নিজেদের কাজে এগিয়ে গিয়ে ‘প্রধানমন্ত্রীর মুদ্রা যোজনা’ সহ বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ পেতে সক্ষম হয়েছেন।
প্রদত্ত ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অসমে প্রতি বছর প্রায় ৭ লক্ষ তরুণ-তরুণী ১৮ বছরের ঊর্ধ্ব বয়সের দলে প্রবেশ করেন। এই হিসাবে পাঁচ বছরে প্রায় ৩৫ লক্ষ নতুন যুবশক্তি তৈরি হয়, যাঁদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি সমাজকে ভাবতে হবে।
তিনি বলেন, যদি সরকার কেবল সরকারি চাকরি দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি না করে, তা-হলে বেকারত্ব যুবসমাজের মধ্যে হতাশা তৈরি করতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে বর্তমান রাজ্য সরকার প্রায় ১.৬০ লক্ষ যুবক-যুবতীকে সরকারি চাকরি দেওয়ার পাশাপাশি অন্যদের জন্যও বিভিন্ন বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
ড. শর্মা আরও বলেন, জাপান ও আমেরিকা সহ বিশ্বের বহু দেশ ক্রমশ বয়স্ক জনসংখ্যার সমাজে পরিণত হচ্ছে। কিন্তু ভারত একটি যুবসমৃদ্ধ দেশ, যেখানে অধিকাংশ মানুষের বয়স ২৭-২৮ বছরের মধ্যে। অন্যদিকে অসমে এই গড় বয়স প্রায় ২২ বছর। অর্থাৎ, কর্মক্ষম যুবশক্তির দিক থেকে অসম দেশের মধ্যে অন্যতম।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলি যাতে অসমের এই যুবশক্তিকে নিয়োগ দিতে আগ্রহী হয়, তার জন্য রাজ্য সরকার দক্ষতা বিশ্ববিদ্যালয় সহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছে। তিনি জানান, গত পাঁচ বছরে রাজ্যের অর্থনীতির আকার ৩.৫ লক্ষ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৮.৫ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। যার ফলে শিল্প, পরিষেবা ও কৃষিখাতে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া জাগিরোডে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, ধুবড়িতে তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং নামরূপে সার কারখানার মতো শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মাধ্যমে সরকার কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াচ্ছে।
‘মুখ্যমন্ত্রীর আত্মনির্ভর অসম অভিযান’ সম্পর্কে তিনি বলেন, এই প্রকল্পের অধীনে কোনও বন্ধক ছাড়াই আত্মনির্ভর হতে আগ্রহী যুবক-যুবতীদের ২ লক্ষ থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, দেশের অন্য কোনও রাজ্যে বন্ধক ছাড়া এভাবে মূলধন দেওয়ার উদাহরণ নেই। যুবসমাজের ওপর আস্থা রেখেই সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি জানান, ‘মুখ্যমন্ত্রীর আত্মনির্ভর অসম অভিযান ১.০’-এর অধীনে মোট ২৫,২৭৭ জন উদ্যোক্তাকে প্রথম কিস্তির অর্থ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাঁদের মধ্যে ১২,৯৭৬ জনকে দ্বিতীয় কিস্তির জন্য যোগ্য বলে বিবেচনা করা হয়েছে। বাকি উদ্যোক্তারা যদি আগামী ৯০ দিনের মধ্যে প্রথম কিস্তির অর্থ ব্যবহারের সঠিক তথ্য শিল্প বিভাগে জমা দেন, তা-হলে আগামী আগস্ট মাসের মধ্যে তাঁদেরও দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ দেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, যাঁরা সরকারের প্রদত্ত অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার করবেন এবং পরে ব্যাংক থেকে ঋণ নেবেন, সেই ঋণের সুদের একটি অংশ রাজ্য সরকার বহন করবে। ভবিষ্যতে এই প্রকল্পের আওতায় ১০ লক্ষ যুবক-যুবতীকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে, জানান মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আমাদের অসমে একটি নতুন যুব আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে, যেখানে যুবসমাজ শুধু আত্মনির্ভরই নয়, অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং নিজেরাই নিয়োগদাতা হয়ে উঠবে।’
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর রাজ্য সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মুখ্যমন্ত্রীর আত্মনির্ভর অসম অভিযান ১.০’ শুরু করেছিল। এছাড়া ‘আত্মনির্ভর অসম অভিযান ২.০’-এর অধীনে গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজ্যের ১২টি স্থানে অনুষ্ঠিত আঞ্চলিক কর্মসূচির মাধ্যমে ৭৪,৭৩৫ জন উদ্যোক্তা যুবক-যুবতীকে প্রথম কিস্তির চেক প্রদান করা হয়েছে।
আজকের অনুষ্ঠানে শিল্প, বাণিজ্য ও সরকারি উদ্যোগ দফতরের মন্ত্রী বিমল বরা, বিধায়কগণ যথাক্রমে অতুল বরা, রমেন্দ্র নারায়ণ কলিতা, সিদ্ধার্থ ভট্টাচার্য, দিগন্ত কলিতা, হেমাঙ্গ ঠাকুরিয়া, গুয়াহাটির মেয়র মৃগেণ শরণিয়া, অতিরিক্ত মুখ্যসচিব ড. জেবি এক্কা সহ বহু শীর্ষ আধিকারিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস