
ইস্তাম্বুল/পিয়ংইয়ং, ১১ মার্চ (হি.স.): বিগত ১২ দিন ধরে পশ্চিম এশিয়ায় চলা আমেরিকা, ইজরায়েল এবং ইরানের সংঘাতের আবহে এবার পূর্ব এশিয়ায় নতুন করে সামরিক উত্তাপ ছড়ালো। নিজেদের সামরিক শক্তির আস্ফালন ঘটিয়ে আবারও শক্তিশালী ক্রুজ মিসাইল বা ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া।
উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন নতুন একটি ধ্বংসকারী যুদ্ধজাহাজ (ডেস্ট্রয়ার) থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ প্রক্রিয়াটি ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করেন। আমেরিকা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়ার প্রতিবাদে পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপকে একটি কড়া সতর্কতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তুরস্ক এবং চিনের সরকারি সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার উত্তর কোরিয়া তাদের পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূলের নামফোর কাছে অবস্থিত 'চো হ্যোন' ডেস্ট্রয়ার থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলি উৎক্ষেপণ করে। ক্ষেপণাস্ত্রগুলি পীত সাগরের (ইয়েলো সি) ওপর দিয়ে নির্দিষ্ট পথে উড়ে গিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানে।
পরীক্ষা পর্যবেক্ষণের পর কিম জং উন সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, তাঁদের দেশের পরমাণু শক্তি এখন বহুমাত্রিক অপারেশনের এক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। তিনি কৌশলগত সমরাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতার ওপর জোর দিয়ে যুদ্ধজাহাজে বসানো নৌ-স্বয়ংক্রিয় কামানের দক্ষতা যাচাইয়ের নির্দেশ দেন। কেসিএনএ-এর তথ্যমতে, কিম তাঁর কিশোরী কন্যাকে নিয়ে একটি অজ্ঞাত স্থান থেকে এই মহড়া প্রত্যক্ষ করেন।
উল্লেখ্য, গত সোমবার থেকে আমেরিকা ও দক্ষিণ কোরিয়া ১১ দিনব্যাপী যৌথ সামরিক মহড়া ফ্রিডম শিল্ড শুরু করেছে। উত্তর কোরিয়া দীর্ঘকাল ধরেই এই জাতীয় মহড়াকে তাদের ওপর হামলার প্রস্তুতি হিসেবে গণ্য করে এর তীব্র সমালোচনা করে আসছে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর কোরিয়ার এই দূরপাল্লার ক্রুজ মিসাইলগুলি প্রায় ২,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম। এর ফলে জাপানের অধিকাংশ এলাকা এবং সেখানে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিও পিয়ংইয়ংয়ের নিশানায় চলে আসতে পারে। ক্রুজ মিসাইলগুলি তুলনামূলক কম উচ্চতা দিয়ে গতিপথ পরিবর্তন করে উড়তে পারে বলে এদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন। তবে রাষ্ট্রপুঞ্জের অধিকাংশ নিষেধাজ্ঞা মূলত ব্যালিস্টিক মিসাইলের ওপর থাকায়, ক্রুজ মিসাইল পরীক্ষার ক্ষেত্রে উত্তর কোরিয়া সরাসরি কোনও আন্তর্জাতিক আইনি জটিলতায় পড়ছে না।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি