
গুয়াহাটি, ১২ মাৰ্চ (হি.স.) : কংগ্রেসের সর্বভারতীয় নেতা পবন খেড়া অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মার বিরুদ্ধে যে সমালোচনা করেছেন, তাকে ভিত্তিহীন ও অমূলক বলে আখ্যা দিয়েছে অসম প্রদেশ বিজেপি। কংগ্রেস নেতা পবন খেড়ার অভিযোগের জবাব দিতে আজ গুয়াহাটিতে বিজেপির প্রদেশ সদর দফতর অটলবিহারী বাজপেয়ী ভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে দলের মুখপাত্র কমলকুমার মেধি বলেন, কংগ্রেস যতই অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মার সমালোচনা করবে, ততই অসমে বিজেপির আসন বাড়বে।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের সময়ও এই একই কংগ্রেস নেতা পবন খেড়া একইভাবে মুখ্যমন্ত্রী ড. শর্মার সমালোচনা করেছিলেন। সেই সমালোচনার ফলাফল মানুষ দেখেছেন। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ৯টি আসনপ্ৰাপ্ত বিজেপি ২০২৪ সালে ১১টি আসন পেতে সক্ষম হয়েছে। ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালালে যে অসমের মানুষ তা গ্রহণ করে না, সেটাই এতে প্রমাণিত হয়েছে।
কমল মেধি বলেন, বিধানসভা নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মার বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলো যতই আক্রমণাত্মক হবে, তার উপযুক্ত জবাব জনগণ ভোটের মাধ্যমে দেবে। ইতিমধ্যেই ‘জন আশীর্বাদ যাত্রা’র মাধ্যমে অসমের মানুষ সেই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন।
অন্যদিকে কংগ্রেসের প্রতিটি যাত্রাই চূড়ান্তভাবে ফ্লপ শোতে পরিণত হয়েছে। কংগ্রেসের ‘রাইজর পদূলিত রাইজর কংগ্রেস’ কর্মসূচি ভোটারদের কাছে পৌঁছতেই পারেনি। ‘পরিবর্তন যাত্রা’ নামে শুরু করা কংগ্রেসের যাত্রা চলছে, নাকি শেষ হয়ে গেছে, তারও কোনও খবর মানুষ পাননি। কংগ্রেসের প্রতিটি কর্মসূচিকে এভাবেই অসমের মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
বিধানসভা নির্বাচনের জন্য কংগ্রেস ৪২ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করার দশ দিন হয়ে গেছে। কিন্তু ঘোষিত কোনও প্রার্থীই এখনও মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারেনি, সভা-সমিতিও করতে পারেনি। আদিবাসী ও ভারতীয় মূলের মানুষের বসবাসস্থল কোনও এলাকায়ই কংগ্রেসকে মানুষ গ্রহণ করেনি। শুধুমাত্র মিয়াঁ মুসলিম বসতির কয়েকটি নির্দিষ্ট আসন ছাড়া বর্তমানে অসমে কংগ্রেসের কোনও অস্তিত্ব নেই। এমন পরিস্থিতিতে দিল্লি থেকে আগত পবন খেড়ার মতো কংগ্রেস নেতার কথাকে অসমের মানুষ কোনও গুরুত্ব দেয় না।
সাংবাদিক সম্মেলনে মুখপাত্র কমলকুমার মেধি আরও বলেন, কংগ্রেসের আমলে জনগণের করের টাকা নেতাদের পকেটে চলে যেত। কিছু নির্দিষ্ট মানুষ ধনী হয়ে উঠেছিল এবং সর্বত্র সরকারি অর্থের অবাধ লুট চলত। কিন্তু এনডিএ সরকারের আমলে জনগণের করের টাকা বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে সরাসরি নাগরিকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছাচ্ছে।
এনডিএ সরকারের আমলে নেতারা নয়, সরকারি অর্থে সাধারণ মানুষই সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর হয়েছেন। ঘুষ না দিয়ে যোগ্যরা সরকারি চাকরি পাচ্ছেন। ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মার নেতৃত্বাধীন সরকার এই স্বচ্ছ ও নিষ্কণ্টক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করায় অসমের মানুষ মুখ্যমন্ত্রীকে আন্তরিকভাবে আশীর্বাদ করেছেন।
কিন্তু দুর্নীতি নির্মূলের এমন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা হওয়ায় কংগ্রেস অসন্তুষ্ট। অসন্তুষ্ট পবন খেড়াও। কংগ্রেসের এই অসন্তোষই বিজেপির জন্য একপ্রকার আশীর্বাদ, কটাক্ষ করেন কমলকুমার মেধি।
অন্যদিকে, অসমীয়াদের হৃদয়ের শিল্পী জুবিন গর্গকে নিয়ে এখনও মানুষ মর্মাহত থাকলেও কংগ্রেস সেই শিল্পীকে নিয়েও নিকৃষ্ট রাজনীতি করছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। মেধি বলেন, প্রয়াত শিল্পীর জন্য রাজ্য সরকার যা করার সবই করেছে এবং ভবিষ্যতেও তাঁর স্মৃতি ও অবদানকে জীবিত রাখতে বিভিন্ন পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। বিরোধীরা কেবল জুবিন গর্গকে নিয়ে রাজনীতি করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস