শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য শুধু জ্ঞান অর্জন নয়, চরিত্র ও মূল্যবোধের বিকাশ ঘটানো : রাজ্যপাল
ডিব্রুগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪-তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল তথা আচাৰ্য লক্ষ্মণপ্রসাদের অংশগ্রহণ ডিব্রুগড় (অসম), ১২ মাৰ্চ (হি.স.) : শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য শুধু জ্ঞান অর্জন নয়, চরিত্র ও মূল্যবোধের বিকাশ ঘটানো, ডিব্রুগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪-তম সম
জনৈক গবেষককে ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদানের দৃশ্য


ডিব্রুগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪-তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল তথা আচাৰ্য লক্ষ্মণপ্রসাদের অংশগ্রহণ

ডিব্রুগড় (অসম), ১২ মাৰ্চ (হি.স.) : শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য শুধু জ্ঞান অর্জন নয়, চরিত্র ও মূল্যবোধের বিকাশ ঘটানো, ডিব্রুগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪-তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রদত্ত ভাষণে বলেছেন অসমের রাজ্যপাল লক্ষ্মণপ্রসাদ আচার্য।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল তথা ডিব্রুগড় বিশ্ববিদ্যালয়-এর আচাৰ্য লক্ষ্মণপ্রসাদ আচাৰ্য স্নাতক শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে এই অনুষ্ঠানকে তাঁদের নিষ্ঠা, অধ্যবসায় এবং শিক্ষাগত সাফল্যের এক উৎসব হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বিশিষ্ট সার্জন ডা. সর্বেশ্বর ভুইয়াঁকে সম্মানসূচক ডক্টর অব সায়েন্স (ডি.এসসি) ডিগ্রি প্রদান এবং প্রখ্যাত কবি ও সাহিত্যিক মামাং দাই-কে সমাজ ও সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য সম্মানসূচক ডক্টর অব লিটারেচার (ডি.লিট) ডিগ্রি প্রদান করায় অভিনন্দন জানিয়েছেন।

প্ৰদত্ত বক্তব্যে রাজ্যপাল বলেন, শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য শুধু জ্ঞান অর্জন নয়, চরিত্র ও মূল্যবোধের বিকাশ ঘটানো। প্রাচীন ভারতীয় আদর্শ ‘সা বিদ্যা য়া বিমুক্তয়ে’-এর উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রকৃত শিক্ষা মানুষকে অজ্ঞতা থেকে মুক্ত করে এবং সমাজ ও জাতি গঠনের দিকে তার দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত করে।

উদ্ভাবন, বিজ্ঞান, উদ্যোগ ও প্রযুক্তির মাধ্যমে ভারতের দ্রুত রূপান্তরের প্রসঙ্গ টেনে রাজ্যপাল বলেন, দেশের যুবসমাজের শক্তি ও প্রতিভাই ভারতের সবচেয়ে বড় সম্পদ। তিনি বলেন, ভারত ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে এবং এই জাতীয় লক্ষ্য অর্জনে তরুণ প্রজন্মের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।

প্রযুক্তিগত অগ্রগতির গুরুত্ব তুলে ধরে রাজ্যপাল বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল বিপ্লব এবং স্বয়ংক্রিয়তার মাধ্যমে বিশ্বে অভূতপূর্ব পরিবর্তন ঘটছে, যা অর্থনীতি ও সমাজকে নতুনভাবে রূপ দিচ্ছে। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘তোমরাই সেই প্রজন্ম, যাঁরা ভারতের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা ও ভাগ্য নির্ধারণ করবে। তাই ডিজিটাল বিপ্লবে কেবল যাত্রী না হয়ে, এর চালক হওয়ার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।’ তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবন ও গবেষণার মাধ্যমে অসম ও দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার আহ্বান জানান।

রাজ্যপাল আরও বলেন, ডিব্রুগড়কে ‘ভারতের চা নগরী’ হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে এখানকার বিস্তীর্ণ চা বাগান, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং পরিশ্রমী মানুষ। তিনি বলেন, যেমন বহু বছরের পরিচর্যায় চা বাগান থেকে সুগন্ধি চা উৎপন্ন হয়, তেমনই ডিব্রুগড় বিশ্ববিদ্যালয়ও বহু প্রজন্মের শিক্ষার্থী গড়ে তুলেছেন, যাঁরা দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এবং বিদেশেও নিজেদের অবদান রাখছেন।

তিনি শিক্ষা, গবেষণা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা বৃদ্ধিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকার প্রশংসা করেন। পাশাপাশি চা-বাগান এলাকার মানুষের জন্য শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সুযোগ বাড়াতে ভূপেন হাজরিকার নামে প্রতিষ্ঠিত ড. ভূপেন হাজরিকা সেন্টার ফর পারফর্মিং আর্টসের সহযোগিতায় পরিচালিত বিভিন্ন কর্মশালার উদ্যোগকেও তিনি সাধুবাদ জানান।

স্নাতকদের সেবা, সততা ও সহমর্মিতার মূল্যবোধ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে রাজ্যপাল বলেন, সমাজের কল্যাণে, বিশেষত দুর্বল ও বঞ্চিত মানুষের উন্নয়নের জন্য, তাদের জ্ঞান ও দক্ষতা ব্যবহার করা উচিত। পাশাপাশি তিনি সবাইকে অসমের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গর্বিত দূত হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, এ বছরের সমাবর্তনের জন্য মোট ১২,২৬৬ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছিলেন, যার মধ্যে ১,৯৭১ জন শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে তাঁদের ডিগ্রি গ্রহণ করেন। এছাড়া ১২৬ জন গবেষককে ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করা হয় এবং শিক্ষাগত কৃতিত্বের জন্য ৪২ জন শিক্ষার্থী স্বর্ণপদক লাভ করেন। এর মধ্যে ৩৮টি পদক স্নাতকোত্তর বিভাগে প্রদান করা হয় এবং কলা, বিজ্ঞান ও বাণিজ্য শাখায় তিনজন শিক্ষার্থীকে শ্রেষ্ঠ স্নাতক হিসেবে সম্মানিত করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছেন, সমাবর্তনের সার্টিফিকেটগুলো ডিজিটাল ফরম্যাটেও উপলব্ধ থাকবে, যাতে শিক্ষার্থীরা সহজেই সেগুলো ডাউনলোড করতে পারেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর জিতেন হাজরিকা, রেজিস্ট্রার ড. পরমানন্দ সনোয়াল, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, বিশ্ববিদ্যালয় কোর্ট, অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল ও এগজিকিউটিভ কাউন্সিলের সদস্যরা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবৰ্গ।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande