
দুর্গাপুর, ১২ মার্চ ( হি. স.) : প্লাস্টিকমুক্ত ভারত গড়ার পাশাপাশি চাষি ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে পাটের (জুট) সামগ্রী তৈরি ও ব্যবহারের ওপর জোর দিল কেন্দ্রীয় পাট ও সহযোগী তন্তু গবেষণা কেন্দ্র । এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে রাজ্য সরকারের সঙ্গে কেন্দ্রীয় কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্র যৌথভাবে কাজ করবে। বৃহস্পতিবার বুদবুদে কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে এমনই প্রস্তাব উঠে এসেছে।
উল্লেখ্য, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান জেলায় কৃষি ও শিল্পের সহাবস্থান। পূর্ব বর্ধমান যেমন রাজ্যের শস্যগোলা, তেমনই পশ্চিম বর্ধমান খনি ও শিল্পাঞ্চল সমৃদ্ধ। এই দুই জেলায় বিজ্ঞানসম্মত চাষাবাদ ও কৃষির সমস্যা দূরীকরণে কাজ করে কেন্দ্রীয় কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্র। এদিনের উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আইসিএআর -ক্রাইজাফ-এর অধিকর্তা ডঃ গৌরাঙ্গ কর। ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন আটারির অধিকর্তা ডঃ প্রদীপ দে। এছাড়াও ডঃ সি.এস. কর ও ডঃ আজিজুর রহমানসহ দুই জেলার কৃষি, উদ্যানপালন, পশুপালন ও মৎস্য বিভাগের আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে পাটের তৈরি সামগ্রী উৎপাদন, প্রশিক্ষণ ও বিপণনের ওপর বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্লাস্টিক একটি ‘নন-বায়োডিগ্রেডেবল’ দ্রব্য, যা প্রাকৃতিক উপায়ে ধ্বংস হওয়া অসম্ভব। প্লাস্টিক বর্জ্য মাটির উর্বরতা নষ্ট করার পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ জলস্তর বৃদ্ধিতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্লাস্টিক পোড়ালে নির্গত বিষাক্ত গ্যাস মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কর্মক্ষমতা নষ্ট করে। অন্যদিকে, পাট সম্পূর্ণ পচনশীল বা ‘বায়োডিগ্রেডেবল’। অধিকর্তা ডঃ গৌরাঙ্গ কর বলেন, দেশকে প্লাস্টিকমুক্ত করতে পাটের ব্যাগ ও সামগ্রীর ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। এতে পাটচাষিরা যেমন লাভবান হবেন, তেমনই জুটের সামগ্রী তৈরি করে মহিলারা স্বনির্ভরতার দিশা পাবেন।
জানা গেছে, বর্তমানে শুধু বস্তা নয়, পাট থেকে ব্যাগ ও কার্পেটের পাশাপাশি উন্নতমানের পোশাকও তৈরি হচ্ছে। আগে হেক্টর প্রতি ১০ কুইন্টাল পাট উৎপাদন হলেও এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ কুইন্টাল। পাটের বাজারমূল্য কুইন্টাল প্রতি ৪ হাজার টাকা থেকে বেড়ে বর্তমানে প্রায় ১৫ হাজার টাকা হয়েছে, যা চাষিদের জন্য লাভজনক।
ডঃ গৌরাঙ্গ কর আরও জানান, ব্যারাকপুরে তপশিলি জাতি ও উপজাতি মহিলাদের জন্য পাটের সামগ্রী তৈরির নিখরচায় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে প্রায় ৬৪ রকমের ব্যাগ তৈরির হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়া হয়। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা প্রশিক্ষণ নিয়ে কীভাবে অনলাইন বাজারের মাধ্যমে নিজেদের পণ্য বিপণন করবেন, তারও ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে ভারতসহ বিদেশের বাজারেও পাটের তৈরি পরিবেশবান্ধব সামগ্রীর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা