
গুয়াহাটি, ১২ মাৰ্চ (হি.স.) : রাজ্যে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার (এলপিজি) এবং অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্যের ঘাটতি নিয়ে গুজব ছড়ালে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে আসাম পুলিশ।
সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ আসাম পুলিশ সতর্কবার্তা জারি করে বলেছে, এলপিজি, পেট্রোল, ডিজেল এবং অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্যের ঘাটতি সম্পর্কে ভ্রান্ত বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের গুজবে বিশ্বাস না করা এবং এগুলো শেয়ার না করতে পুলিশ নাগরিকদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, কিছু ‘অশুভ শক্তি’ জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে ভুল তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করতে পারে। তাই, জ্বালানির সরবরাহ সম্পর্কে কেবল সরকারি তথ্যের ওপরই নির্ভর করতে জনগণকে অনুরোধ করা হয়েছে।
রাজ্যে এলপিজি এবং পেট্রোলিয়াম পণ্য সম্পৰ্কে অসমের মুখ্যসচিব ড. রবি কোটা যে তথ্য জানিয়েছিলেন তার পর আজ পুলিশ এই সতর্কবার্তা জারি করেছে। মুখ্যসচিব ড. কোটা জানিয়েছিলেন, রাজ্যের স্থানীয় রিফাইনারিগুলোর সক্ষমতা বর্তমানে অসমের মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৩০ শতাংশ পূরণ করতে পারে। এর ফলে আগামী দিনে সম্ভাব্য ঘাটতি নিয়ে কিছু উদ্বেগ তৈরি হলেও চিন্তার কিছুই নেই।
আতঙ্ক এবং ভ্রান্ত তথ্য ছড়ানো রোধ করতে রাজ্য সরকার একটি বিশেষ মিডিয়া মনিটরিং কমিটি গঠন করেছে, যা গুজব, বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন ও মিথ্যা দাবিগুলোর ওপর নজর রাখবে।
মুখ্যসচিব ড. কোটা জানিয়েছিলেন, রাজ্য সরকার ইতিমধ্যে অসমে কার্যরত চারটি রিফাইনারিকে উৎপাদন বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে, যাতে ভোক্তাদের জন্য এলপিজির সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখা যায়। এ ব্যাপারে অনুষ্ঠিত ভিডিও কনফারেন্সে মুখ্যসচিবের সঙ্গে আসাম পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল (ডিজিপি) হরমিত সিং খাদ্য ও নাগরিক সরবরাহ দফতরের আধিকারিকগণ এবং তেল বিপণন সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছিলেন। বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহনের সঙ্গে বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্যসচিব ও ডিজিপিরাও যোগ দিয়েছিলেন। এতে দেশজুড়ে এলপিজি ও ডিজেলের প্রাপ্যতা ও সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে।
অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইন্ডিয়াল অয়েল কর্পোরেশন (আইওসি)-এর স্টেট লেভেল কোঅর্ডিনেটর অসমে এলপিজি সরবরাহের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে জানান, সামগ্রিক অবস্থা স্বস্তিদায়ক এবং বর্তমানে রাজ্যে পর্যাপ্ত এলপিজি মজুত রয়েছে।
অসমে মোট চারটি রিফাইনারি রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি আইওসি পরিচালিত ডিগবয় রিফাইনারি, গুয়াহাটি রিফাইনারি এবং বঙাইগাঁও রিফাইনারি। আরেকটি নুমলিগড় রিফাইনারি লিমিটেড পরিচালিত নুমলিগড় রিফাইনারি।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রতিদিন প্রায় ১.৯১ লক্ষ ১৪.২ কেজি ওজনের গৃহস্থালি এলপিজি সিলিন্ডারের প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে এক অসমেই প্ৰতিদিন ব্যবহৃত হয় প্রায় ১.৩৪ লক্ষ সিলিন্ডার। বাণিজ্যিক খাতে ১৯ কেজি ওজনের সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বাজারে প্রতিদিন প্রায় ৫,৭৭৭টি ইউনিটের প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে প্রায় ৪,১১২টি ইউনিট ব্যবহৃত হয় অসমে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস