
আগরতলা, ১২ মার্চ (হি.স.) : তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার আগরতলায় মুক্তধারা অডিটোরিয়ামে শাস্ত্রীয় সংগীত সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সচিব ডঃ প্রদীপ কুমার চক্রবর্তী।
উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, শাস্ত্রীয় সঙ্গীত এমন এক সংগীতধারা যা নির্দিষ্ট ও কঠোর নিয়মনীতি, রাগ-রাগিণী, তাল এবং শাস্ত্রীয় ব্যাকরণ মেনে পরিবেশন করা হয়। এই সংগীত মূলত উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত হিসেবে পরিচিত এবং দীর্ঘদিনের সাধনা ও রাগভিত্তিক শাস্ত্রীয় বিধিনিষেধের ওপর নির্ভরশীল। তিনি জানান, ভারতীয় উপমহাদেশে শাস্ত্রীয় সংগীতের দুটি প্রধান ধারা রয়েছে—উত্তর ভারতীয় হিন্দুস্থানি এবং দক্ষিণ ভারতীয় কর্ণাটকীয় সংগীত।
তিনি আরও বলেন, শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ইতিহাস বৈদিক যুগ পর্যন্ত বিস্তৃত। খেয়াল, ধ্রুপদ, ধামার, ঠুমরি, গজল ও দাদরা হিন্দুস্থানি শাস্ত্রীয় সংগীতের গুরুত্বপূর্ণ ধারা। ত্রিপুরাতেও শাস্ত্রীয় সংগীতের চর্চা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই চর্চাকে নব প্রজন্মের কাছে আরও বেশি করে তুলে ধরার উদ্যোগ নিতে হবে।
অনুষ্ঠানে রাজ্যভিত্তিক সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত চক্রবর্তী বলেন, শাস্ত্রীয় সংগীত আমাদের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই সংগীতচর্চার জন্য কঠোর সাধনা, একাগ্রতা ও নিষ্ঠা প্রয়োজন। গুরু-শিষ্য পরম্পরা বজায় রেখেই শাস্ত্রীয় সংগীতের ধারা এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। পাশাপাশি এই ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক সংস্থাগুলিকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের অধিকর্তা বিম্বিসার ভট্টাচার্য জানান, রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী মিশ্র সংস্কৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে দফতর বছরজুড়ে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। নাট্য উৎসব, যাত্রা উৎসব, কবিতা উৎসবসহ বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে নব প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করাই দফতরের অন্যতম লক্ষ্য। তিনি বলেন, প্রতি বছরই রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে শাস্ত্রীয় সংগীতের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয় এবং গত বছর এই অনুষ্ঠান উদয়পুরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সুবল বিশ্বাস ও মনোরঞ্জন দেব বক্তব্য রাখেন। শেষে রাজ্যের বিশিষ্ট শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ শাস্ত্রীয় সংগীতানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ