রাজস্থানে গ্যাস সংকট তীব্র, দীর্ঘ লাইন; ২৯ লক্ষ লিটারের বেশি কেরোসিন বরাদ্দ
জয়পুর, ১৩ মার্চ (হি.স.): রাজস্থানে রান্নার গ্যাসের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। রাজ্যের একাধিক শহরে গ্যাস এজেন্সির সামনে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে হোটেল ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরাও সমস্যায় পড়েছেন। গ্যাসের ঘাটতির কার
রাজস্থানে গ্যাস সংকট তীব্র, দীর্ঘ লাইন; ২৯ লক্ষ লিটার কেরোসিন বরাদ্দ


জয়পুর, ১৩ মার্চ (হি.স.): রাজস্থানে রান্নার গ্যাসের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। রাজ্যের একাধিক শহরে গ্যাস এজেন্সির সামনে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে হোটেল ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরাও সমস্যায় পড়েছেন। গ্যাসের ঘাটতির কারণে কয়েকটি রেস্তোরাঁ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে এবং অনেক জায়গায় মেনু কমিয়ে দিতে হয়েছে।

আলওয়ারে গ্যাস সিলিন্ডারের সংকট দ্রুত বাড়ছে। মালব্য নগর এলাকার একটি গ্যাস সার্ভিস সেন্টারের সামনে শুক্রবার ভোর পাঁচটা থেকেই গ্রাহকেরা লাইনে দাঁড়ান। এজেন্সি খোলার পরও সিলিন্ডার না পেয়ে ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের সঙ্গে পুলিশের বাগ্বিতণ্ডাও হয়। পরে এজেন্সির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১০ মার্চ পর্যন্ত বুকিং করা গ্রাহকদেরই সিলিন্ডার দেওয়া হবে।

গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে হোটেল ও রেস্তোরাঁ ব্যবসাতেও। উদয়পুরের বেশ কয়েকটি হোটেলে গ্যাস সিলিন্ডারের মজুত প্রায় শেষ হয়ে গেছে। এক হোটেল মালিক রাজেশ আগরওয়াল জানান, রান্নার জন্য কর্মীদের ইন্ডাকশন কুকটপ ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং এখন চা, পরোটা ও সকালের জল খাবার ইন্ডাকশনেই তৈরি করে রুম সার্ভিস দেওয়া হচ্ছে। অন্য একটি হোটেল ও রেস্তোরাঁয় কমার্শিয়াল সিলিন্ডারের ঘাটতির কারণে সাময়িকভাবে সকালের জল খাবার বা প্রাতরাশ (ব্রেকফাস্ট ) ও দুপুরের খাবার বা মধ্যাহ্নভোজ (লাঞ্চ) পরিষেবা বন্ধ রাখতে হয়েছে।

কোটার ল্যান্ডমার্ক সিটি এলাকায় একটি হোস্টেলের মেসে গ্যাস না পাওয়ায় ছাত্রদের জন্য কাঠ ও কয়লার চুল্লিতে রুটি ও সবজি রান্না করা হচ্ছে। এদিকে জয়পুরের চাঁদপোল এলাকার সঞ্জয় সার্কেলে গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে জয়পুর সিটি জেলা কংগ্রেস কমিটির পক্ষ থেকে প্রতীকী বিক্ষোভ দেখানো হয়। সেখানে কাঠের চুল্লিতে রান্না করে প্রতিবাদ জানানো হয় এবং এলপিজি সিলিন্ডারের প্রতীকী ‘শবযাত্রা’ বের করা হয়। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কুশপুতুলও দাহ করা হয়।

এই বিক্ষোভে প্রাক্তন মন্ত্রী প্রতাপ সিং খাচারিয়াওয়াস, জয়পুর সিটি কংগ্রেস সভাপতি সুনীল শর্মা, বিধায়ক আমিন কাগজি ও রফিক খান-সহ কংগ্রেসের একাধিক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে গৃহস্থালি রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের কালোবাজারির অভিযোগও সামনে এসেছে। সংকটের কারণে অনেকেই বেশি দাম দিয়ে সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

তেল সংস্থাগুলি গ্রামীণ এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার বুকিংয়ের জন্য ৪৫ দিনের ব্যবধান নির্ধারণ করেছে, যেখানে শহরে এই সময়সীমা ২৫ দিন।এই পরিস্থিতির মধ্যে কেন্দ্র সরকার রাজ্যগুলিকে কেরোসিন বরাদ্দ করেছে। সারা দেশে মোট ৪৮ হাজার ২৪০ কিলোলিটার কেরোসিন বরাদ্দ করা হয়েছে, যার মধ্যে রাজস্থান পেয়েছে ২ হাজার ৯২৮ কিলোলিটার বা প্রায় ২৯ লক্ষ ২৮ হাজার লিটার। এই কেরোসিন কীভাবে এবং কোন শ্রেণির মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হবে, তা রাজ্য সরকার ঠিক করবে। কেন্দ্র সরকার নির্দেশ দিয়েছে, গ্রামীণ এলাকাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং বিতরণ ব্যবস্থার উপর কঠোর নজরদারি রাখতে হবে যাতে এর অপব্যবহার না হয়।

উল্লেখ্য, রাজস্থানে কেরোসিনমুক্ত রাজ্য গড়ার অভিযান ২০১৩ সালে আলওয়ার জেলার কোটাকাসিম এলাকা থেকে শুরু হয়েছিল। তখন এলাকার সমস্ত পরিবারের কাছে এলপিজি সংযোগ পৌঁছানোর পর সেটিকে প্রথম কেরোসিনমুক্ত অঞ্চল ঘোষণা করা হয়। পরে ধাপে ধাপে গোটা রাজ্যকেই কেরোসিনমুক্ত ঘোষণা করা হয়।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande