
নয়াদিল্লি , ১৩ মার্চ (হি.স.): দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আবহাওয়ার ভিন্ন ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। কোথাও ঝড়-বৃষ্টি, কোথাও তাপপ্রবাহ, আবার কোথাও বৃষ্টি ও তুষারপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। পরিবর্তিত আবহাওয়ার প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও স্বাস্থ্যের উপরেও।
পশ্চিমবঙ্গে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কলকাতা ও আশপাশের এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও সংলগ্ন গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপর একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প রাজ্যে প্রবেশ করছে। ফলে আগামী কয়েক দিনে উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে এবং দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি ও ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। শুক্রবার সকালে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে ৩.৬ ডিগ্রি বেশি।
রাজস্থানে পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে আগামী কয়েক দিনে ঝড়ো হাওয়া ও হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ১৪ ও ১৫ মার্চ শ্রীগঙ্গানগর, হনুমানগড়, চুরু, শেখাওয়াতি, আজমির, জয়পুর ও ভরতপুর অঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় মেঘগর্জন ও ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে হালকা বৃষ্টি হতে পারে। তবে গত কয়েক দিনের তীব্র গরমের পর মেঘলা আকাশের কারণে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে।
মধ্যপ্রদেশে তাপপ্রবাহের প্রকোপ বাড়ছে। নর্মদাপুরমে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে। রতলাম, খাজুরাহো, ধর, দামোহ, টিকমগড় ও খান্ডোয়াসহ একাধিক শহরে তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রয়েছে। আবহাওয়া দফতরের মতে, ১৪ মার্চ থেকে সক্রিয় পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে ১৫ ও ১৬ মার্চ রাজ্যের বেশ কয়েকটি জেলায় মেঘলা আকাশ, বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে।
অন্যদিকে জম্মু ও কাশ্মীরে আগামী ২০ মার্চ পর্যন্ত দফায় দফায় বৃষ্টি ও তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ১৫ মার্চ রাত থেকে ১৬ মার্চ সকাল পর্যন্ত সমতল এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি এবং উঁচু এলাকায় তুষারপাত হতে পারে।
এদিকে বিহারের সুপৌল জেলার রাঘোপুর এলাকায় আবহাওয়ার পরিবর্তনের প্রভাবে মৌসুমি রোগ বাড়ছে। রাঘোপুর রেফারেল হাসপাতালে প্রতিদিন ২০০-র বেশি রোগী চিকিৎসার জন্য আসছেন। চিকিৎসকদের মতে, আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তনের কারণে ডিহাইড্রেশন, সর্দি-কাশি, জ্বর, বমি ও ডায়রিয়ার মতো সমস্যার রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আবহাওয়া দফতর এবং চিকিৎসকেরা সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য