


- ‘পশ্চিমবঙ্গের মানুষ অসমের মতো সুশাসনের সরকার চাইছে’ : মোদী
- গুয়াহাটিতে রাজ্যের ২৮,২৪১ জন চা শ্রমিককে ভূমি পাট্টা প্রদান প্রধানমন্ত্রীর
- পিএম-কিষাণ-এর ৯ কোটি ৩২ লক্ষাধিক কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ১৮,৬৪০ কোটি টাকা স্থানান্তরিত
গুয়াহাটি, ১৩ মাৰ্চ (হি.স.) : আন্তর্জাতিক সংকটের প্রভাব ভারতীয় কৃষকদের ওপর পড়বে না, সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে, বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গুয়াহাটিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের মানুষ অসমের মতো সুশাসনের সরকার চাইছে।’
আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় গুয়াহাটির জ্যোতি-বিষ্ণু কলা মন্দিরে আয়োজিত ‘একতা মল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান’-এ একাধিক কর্মসূচি সম্পন্ন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রথমে রাজ্যের চা জনগোষ্ঠীর ২৮,২৪১টি পরিবারকে ডিজিটাল মাধ্যমে ভূমি পাট্টা প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বরাবরের মতোই তিনি অসমীয়া ভাষায় বক্তব্য শুরু করেন। বলেন, ‘আমার প্রিয় গুয়াহাটিবাসী, আপনাদের প্রতি আমার আন্তরিক ভালোবাসা জানাচ্ছি।’
এর পর বক্তব্য শুরু করে তিনি বলেন, ‘আপনাদের পরিশ্রমে উৎপাদিত চা আমি গুজরাটে বিক্রি করেছিলাম, মা কামাখ্যার কৃপায় চা শ্রমিকদের ঋণ শোধ করতে পেরেছি, কংগ্ৰেস সরকার আপনাদের সঙ্গে ঐতিহাসিক অবিচার করেছে। আজ তার সমাপ্তি ঘটিয়েছি।’ প্ৰধানমন্ত্ৰী বলেন, কংগ্রেস চা বাগানের শ্রমিকদের কখনও গুরুত্ব দেয়নি। আজ আপনারা একটি ঐতিহাসিক অন্যায় অবিচার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন, এখন আপনাদের নিজস্ব জমি হবে, পাকা বাড়ি হবে।
গুয়াহাটিতে একই অনুষ্ঠান থেকে আজ প্রধানমন্ত্রী ‘পিএম-কিষাণ সম্মান নিধি’ প্রকল্পের ২২ তম কিস্তির অধীনে ৯ কোটি ৩২ লক্ষাধিক কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ১৮,৬৪০ কোটি টাকা স্থানান্তর করেছেন। পিএম-কিষাণের টাকা জমা করে তিনি বলেন, দেশের কোটি কোটি কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে গেছে। অসমে ১৯ লক্ষ কৃষক এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, কংগ্রেস এই প্রকল্প নিয়েও রাজনীতি করেছে। নির্বাচন শেষে এই প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাবে বলে অপপ্রচার চালিয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেসের আমলে কৃষকদের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (এমএসপি)-এর জন্য আন্দোলন করতে হতো।
কৃষিখাতে সহায়তা ব্যবস্থার তুলনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৪ সালের আগের দশকে কংগ্রেস সরকার ন্যূনতম সমর্থন মূল্য ৬.৫ লক্ষ কোটি টাকা ব্যয়ধার্য করেছিল। অথচ এনডিএ জোট সরকার গত দশ বছরে ২০ লক্ষ কোটি টাকা দিয়েছে। তাই এনডিএ সরকার সহানুভূতি এবং সুশাসনের জন্য পরিচিতি লাভ করেছে। আমরা সমাজের সব শ্রেণির উন্নয়নে বিশ্বাস করি, বলেন মোদী।
আন্তর্জাতিক সংকটের প্রভাব ভারতীয় কৃষকদের ওপর পড়বে না বলে আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে এবং আত্মনির্ভরতার ওপর জোর দিয়েছে। আমরা আমাদের কৃষকদেরকে কোভিড-১৯ এবং যুদ্ধের মতো বৈশ্বিক ঘটনাবলি থেকে অন্তরালে রেখেছি। আমরা কৃষক ভাইদের স্বস্তি দিতে সারে ভর্তুকি হিসাবে ১২ লক্ষ কোটি টাকা ব্যয় করেছি।’
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে দেশকে বিদেশের ওপর নির্ভরশীল করে রেখেছিল। কিন্তু বর্তমান সরকারের আমলে সেই নির্ভরতা কমেছে। কৃষকরা এখন শুধু ‘অন্নদাতা’ নন, ‘শক্তিদাতা’-তেও পরিণত হচ্ছেন।
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর এক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে কংগ্রেসকে সমালোচনা করে মোদী বলেন, কোরিয়া যুদ্ধের সময় ভারতে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে নেহরু দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করেছিলেন। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ প্রসঙ্গেও কংগ্রেসকে ঠুকেছেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, দেশবাসীকে বিভ্রান্ত ও আতঙ্কিত করতে সত্য তথ্য প্রকাশ না করে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে।
তিনি বলেন, অসমের চা বিশ্বজুড়ে পরিচিত সম্মানিত। এই সম্মান ও পরিচিতি এসেছে চা শ্রমিকদের পরিশ্রমের জন্যই। বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার সংবেদনশীলতা ও সুশাসনের ভিত্তিতে কাজ করছে। ভূমি পাট্টা পাওয়ার ফলে চা শ্রমিকদের পরিবার উপকৃত হবে।
নিজের অতীতের কথা স্মরণ করে মোদী বলেন, ‘আপনাদের উৎপাদিত চা আমি গুজরাটে বিক্রি করেছিলাম। আমিও একসময় চা বিক্রি করতাম। মা কামাখ্যার আশীর্বাদে আজ চা শ্রমিকদের প্রতি আমার ঋণ শোধ করতে পেরেছি।’
তিনি আরও বলেন, অসমের পর্যটন এখন উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। রাজ্যের উন্নয়নের প্রভাব পশ্চিমবঙ্গেও পড়ছে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ আজ অসমের মতো সুশাসনের সরকার চাইছে।
অনুষ্ঠানে তিনি অসমের মুখ্যমন্ত্রীকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, একতা মল-এ প্রতিটি রাজ্যের পণ্য বিক্রির ব্যবস্থা করা উচিত। উচিত অসমের প্রতিটি জেলার পণ্য সেখানে পাওয়া।
এছাড়া আজ ১৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কপিলি হাইড্রো পাওয়ার প্রজেক্ট জাতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস