(রাউন্ড আপ )দেশজুড়ে এলপিজি নিয়ে বিভ্রান্তি ও ভোগান্তি, ঘাটতির অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক তরজা
নয়াদিল্লি, ১৩ মার্চ (হি.স.): দেশজুড়ে এলপিজি গ্যাসের সরবরাহ ও দামকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি, ভোগান্তি এবং রাজনৈতিক তরজা তীব্র হয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যে কোথাও গ্যাসের ঘাটতির অভিযোগ উঠছে, আবার প্রশাসন ও কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে যে দেশে জ্বালানি
গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে গুজবে কান দেবেন না, সার্ভার ধীরগতির জন্যই বুকিংয়ে সমস্যা: জেলা শাসক


নয়াদিল্লি, ১৩ মার্চ (হি.স.): দেশজুড়ে এলপিজি গ্যাসের সরবরাহ ও দামকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি, ভোগান্তি এবং রাজনৈতিক তরজা তীব্র হয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যে কোথাও গ্যাসের ঘাটতির অভিযোগ উঠছে, আবার প্রশাসন ও কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে যে দেশে জ্বালানি ও রান্নার গ্যাসের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।

উত্তর প্রদেশের হাপুরে বৃহস্পতিবার রাতে একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ৩২টি গ্যাস সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করেছে। এর মধ্যে ১৮টি ভর্তি এবং ১৪টি খালি সিলিন্ডার ছিল। জেলা সরবরাহ আধিকারিক সীমা বালিয়ান জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং জেলায় পর্যাপ্ত গ্যাস, পেট্রোল ও ডিজেল উপলব্ধ রয়েছে।

এদিকে উত্তর প্রদেশের মির্জাপুরের জেলা শাসক পবন কুমার গাঙ্গোয়ার জানিয়েছেন, গ্যাসের কোনও ঘাটতি নেই। তেল সংস্থাগুলির সার্ভার ধীরগতির কারণে সাময়িকভাবে অনলাইন বুকিংয়ে সমস্যা হওয়ায় কিছু এলাকায় বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। তিনি মানুষকে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

হিমাচল প্রদেশের মুখ্যসচিব সঞ্জয় গুপ্তও জানিয়েছেন, রাজ্যে এলপিজি সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে নয়। কেন্দ্র সরকার গৃহস্থালির রান্নার গ্যাস সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং জেলাগুলির কাছ থেকে নিয়মিত রিপোর্ট নেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে বিহার সরকার এলপিজি সংক্রান্ত সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য খাদ্য ও ভোক্তা সুরক্ষা দফতরে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করেছে। সকাল ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এই নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা থাকবে এবং গ্রাহকেরা ফোন করে অভিযোগ জানাতে পারবেন।

তবে কিছু রাজ্যে গ্যাসের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার অভিযোগও উঠেছে। রাজস্থানের একাধিক শহরে গ্যাস এজেন্সির সামনে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। আলওয়ার, উদয়পুর ও কোটাসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের ঘাটতির কারণে হোটেল ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়েছেন। কয়েকটি জায়গায় কাঠ বা ইন্ডাকশন চুল্লি ব্যবহার করে রান্না চালাতে হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্র রাজস্থানকে প্রায় ২৯ লক্ষ লিটারের বেশি কেরোসিন বরাদ্দ করেছে।

ঝাড়খণ্ড বিধানসভাতেও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ নিয়ে শুক্রবার তুমুল হট্টগোল হয়। বিধায়কেরা অভিযোগ করেন, গ্যাসের দাম বাড়ার পাশাপাশি সরবরাহ কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়ছেন। যদিও বিজেপি দলনেতা বাবুলাল মারান্ডি দাবি করেন, রাজ্যে প্রকৃতপক্ষে গ্যাসের কোনও ঘাটতি নেই।

পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুরেও গ্যাস সংগ্রহ করতে গিয়ে ভোগান্তির অভিযোগ সামনে এসেছে। একটি গ্যাস ডিলারশিপের সামনে শুক্রবার সকাল থেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় বহু গ্রাহককে। গ্রাহকদের দাবি, বুকিং করলেও সময়মতো সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না।

এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের সমালোচনা করে কলকাতায় কংগ্রেস সেবাদল প্রতীকী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে। তারা কেন্দ্রের জ্বালানি ও অর্থনৈতিক নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখায়।

এদিকে সংসদ ভবন চত্বরে এলপিজি সিলিন্ডারের জোগান ঘাটতির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন বিরোধী সাংসদেরা। কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস-সহ বিভিন্ন দলের সাংসদেরা কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর চড়ান। অন্যদিকে বিজেপি সাংসদরা দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে সরকার পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং সাধারণ মানুষকে কোনও ঘাটতির মুখে পড়তে হবে না।

উত্তর প্রদেশের প্রাক্তন রাজ্যপাল ও বিজেপি নেতা কলরাজ মিশ্রও বলেছেন, দেশে গ্যাস, পেট্রোল ও ডিজেলের কোনও ঘাটতি নেই। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক স্বার্থে বিরোধীরা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande