

গুয়াহাটি, ১৫ মাৰ্চ (হি.স.) : ‘আজ অসমের যুব শক্তির একটাই সংকল্প, আমরা দেশকে বাঁচাব, অসমকে বাঁচাব, অসমকে উন্নয়নের শীর্ষে পৌঁছে দিতে যুব সমাজই সবচেয়ে বড় শক্তি।’ গুয়াহাটির খানাপাড়া ময়দানে অসমের ৩১,৪০০টি বুথ থেকে প্রায় ১.৫০ লক্ষ যুবক-যুবতীর অংশগ্রহণে আয়োজিত বিশাল ‘যুবশক্তি সমারোহ’-এ উদাত্ত ভাষণ দিতে দিচ্ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা। তিনি রাজ্যের যুবসমাজকে উন্নয়ন, চাকরি ও নিরাপত্তার সংকল্পেরও ঘোষণা করেছেন।
ভারতীয় জনতা যুবমোর্চা, অসম প্রদেশের উদ্যোগে খানাপাড়ায় পশু চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় ময়দানে অনুষ্ঠিত ‘যুবশক্তি সমারোহ’-এর মাধ্যমে রাজ্যের প্রতিটি জেলার যুব ভোটারদের উপস্থিতিতে নির্বাচনী আবহ স্পষ্ট হয়েছে। অসমের উন্নয়ন ও অগ্রগতির যাত্রায় যুবশক্তির সংকল্পকে আরও দৃঢ় করতে এই যুবশক্তি সমাবেশের আয়োজন করেছে দল।
অনুষ্ঠানে উদাত্ত ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী ড. শর্মা বলেন, অসমকে উন্নয়নের শীর্ষে পৌঁছে দিতে যুব সমাজই সবচেয়ে বড় শক্তি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন, অসম আগামী দিনে নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে।
মুখ্যমন্ত্ৰী বলেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে রাজ্যে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে প্রায় ১০ হাজার যুবক-যুবতী মূল স্রোতে ফিরে এসেছে।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষার ক্ষেত্রেও রাজ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির প্ৰসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে অসমের বিভিন্ন জেলায় ২৫টি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল স্থাপনের পথ প্রশস্ত হয়েছে, স্থাপিত হয়েছে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্স (এইমস)। পাশাপাশি প্রতিটি জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা কয়েক বছর আগেও অনেকের কাছে কল্পনাতীত ছিল।
চাকরির ক্ষেত্রেও সরকারের সাফল্যের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার প্রথমে ১ লক্ষ চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, অথচ এখন পর্যন্ত প্রায় ১ লক্ষ ৬৫ হাজার চাকরি প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া আগামী দিনে আরও ২ লক্ষ যুবক-যুবতীকে সরকারি চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।
রাজ্যের ১০ লক্ষ ছেলে-মেয়েকে ব্যবসা শুরু করার জন্য ২ লক্ষ টাকা করে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে এমন ব্যবস্থা করা হবে যাতে কোনও শিক্ষার্থীকে পড়াশোনার জন্য আর্থিক কারণে বাবা-মায়ের ওপর বোঝা হতে না-হয়।
মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যে অবৈধ দখলমুক্তকরণ অভিযান সম্পর্কেও কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, অবৈধ বিদেশিদের দখল থেকে ইতিমধ্যে প্রায় দেড় লক্ষ বিঘা জমি উদ্ধার করা হয়েছে। আগামী দিনেও এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। ‘অসম কারও বিচরণভূমি নয়’, বলে অনুপ্রবেশকারীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্ৰী।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অসমে আগে প্রায় প্রতিদিন গণ্ডার শিকার হতো, এখন সেই অসমে গত পাঁচ বছরে একটি গণ্ডারও মারা হয়নি।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস