
কলকাতা, ১৫ মার্চ (হি.স.): প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন। রবিবার বিকেলে নয়াদিল্লিতে এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানান যে পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনে এবার মাত্র দুই দফায় ভোট গ্রহণ করা হবে। আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে এবং ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। দীর্ঘ ১৫ বছরে এই প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গে এত কম দফায় নির্বাচন হতে চলেছে। ২০১১ সালে ৬ দফা, ২০১৬ সালে ৭ দফা এবং ২০২১ সালে ৮ দফায় ভোট হলেও এবার তা একধাক্কায় কমে মাত্র ২ দফায় এসে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হবে আগামী ৪ মে এবং সমগ্র নির্বাচনী প্রক্রিয়া ৬ মে-র মধ্যে সম্পন্ন হবে।
২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় যে জেলাগুলিতে ভোট হবে তার মধ্যে রয়েছে নদীয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব বর্ধমান এবং পশ্চিম বর্ধমান। এই দফার জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি হবে ২ এপ্রিল এবং মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ৯ এপ্রিল। স্ক্রুটিনির পর ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে।
উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ভোটার তালিকা অনুযায়ী এবার রাজ্যে প্রায় ৬.৪৪ কোটি মানুষ তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। বর্তমান সরকারের মেয়াদ আগামী ৭ মে শেষ হতে চলায় তার আগেই নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শেষ করতে চাইছে কমিশন।
এদিকে নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে রাজ্য সরকারি কর্মচারী ও পুরোহিত-মুয়াজ্জিনদের জন্য বড় ঘোষণা করে মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে রোপা ২০০৯ বিধি অনুযায়ী বকেয়া মহার্ঘভাতা বা ডিএ মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু করার কথা জানিয়েছেন তিনি। চলতি মার্চ মাস থেকেই সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক ও পেনশনভোগীরা এই বর্ধিত সুবিধা পাবেন বলে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর এক্স বার্তায় নিশ্চিত করেছেন। এর পাশাপাশি রাজ্যের পুরোহিত ও মুয়াজ্জিনদের মাসিক ভাতার পরিমাণ ৫০০ টাকা বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা থেকে ২,০০০ টাকা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন যে আধ্যাত্মিক ও সামাজিক ঐতিহ্য রক্ষাকারীদের সম্মান জানাতেই এই পদক্ষেপ।
তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে ‘শেষ মুহূর্তের মরিয়া নির্বাচনী কৌশল’ বলে তীব্র কটাক্ষ করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সামাজিক মাধ্যমে পাল্টা দাবি করেছেন যে নির্বাচন কমিশন তারিখ ঘোষণা করার মাত্র কয়েক মিনিট আগে সরকারের হঠাৎ কর্মীদের কথা মনে পড়েছে। শুভেন্দুর মতে, রাজ্যের কোষাগার আসলে শূন্য এবং এটি জনগণকে বোকা বানানোর একটি ধ্রুপদী নাটক ছাড়া আর কিছুই নয়। একদিকে শাসকদলের জনহিতকর ঘোষণা এবং অন্যদিকে বিরোধীদের কড়া আক্রমণের মধ্য দিয়ে আজ থেকেই রাজ্যে নির্বাচনী উত্তাপ চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেল।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি