৪৫ দিনের বুকিং নিয়মে বাড়ল সমস্যা, কুমারঘাটে গ্যাসের তীব্র সংকট
কুমারঘাট (ত্রিপুরা), ১৫ মার্চ (হি.স.) : পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। এর জেরে ত্রিপুরাতেও দেখা দিয়েছে রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকট। ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না গ্যাসের সিলিন্ডার।
কুমারঘাটে গ্যাসের সংকট


কুমারঘাট (ত্রিপুরা), ১৫ মার্চ (হি.স.) : পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। এর জেরে ত্রিপুরাতেও দেখা দিয়েছে রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকট। ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না গ্যাসের সিলিন্ডার। বন্ধ হয়ে গেছে বাণিজ্যিক গ্যাসের সরবরাহ, যার ফলে সমস্যায় পড়েছেন হোটেল ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরাও।

রাজ্যের বিভিন্ন জায়গার পাশাপাশি ঊনকোটি জেলার কুমারঘাটেও গ্যাসের সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। গ্যাস এজেন্সিগুলির সামনে প্রতিদিনই দেখা যাচ্ছে গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন। তবুও পর্যাপ্ত সিলিন্ডার না পাওয়ায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন গ্রাহকরা। একই সঙ্গে বেড়েছে ঘরোয়া ও বাণিজ্যিক গ্যাসের দামও।

এদিকে নতুন নিয়ম অনুযায়ী একবার গ্যাস নেওয়ার পর পুনরায় বুকিং করার সময়সীমা বাড়িয়ে ৪৫ দিন করা হয়েছে। ফলে অনেক গ্রাহকই নতুন করে বুকিং করতে পারছেন না। যাদের আগে থেকেই বুকিং করা রয়েছে, তারাই কেবলমাত্র সিলিন্ডার পাচ্ছেন।

গ্যাস নিতে আসা লক্ষ্মীকান্ত সিনহা নামে এক গ্রাহক জানান, নতুন নিয়মে ৪৫ দিন পূর্ণ না হওয়ায় অনেকেই বুকিং করতে পারছেন না। যাদের বুকিং রয়েছে তাঁরাও সময়মতো গ্যাস পাবেন কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে অধিকাংশ পরিবারই রান্নার জন্য গ্যাসের উপর নির্ভরশীল। ফলে এই সংকটে প্রতিটি পরিবারেই সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

অন্যদিকে স্বপ্না দাস নামে এক মহিলা জানান, কয়েকদিন ধরেই বুকিংয়ের সমস্যায় গ্যাস নিতে পারছিলেন না তিনি। পরে এজেন্সির অফিসে গিয়ে বুকিং করে সিলিন্ডার পান। তবে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়ানোর পাশাপাশি নতুন দামে প্রায় ৬০ টাকা বেশি দিয়ে গ্যাস কিনতে হয়েছে বলেও জানান তিনি। হঠাৎ দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের উপর বাড়তি চাপ পড়েছে বলে অভিযোগ করেন ওই মহিলা।

গ্যাসের এই সংকটের প্রভাব পড়েছে কুমারঘাটের হোটেল ও রেস্তোরাঁ ব্যবসাতেও। গ্যাসের অভাবে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী খাবার প্রস্তুত করতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা।

কুমারঘাটের হোটেল ব্যবসায়ী দীপক পাল জানান, গ্যাসের সংকটে তাঁর দোকানের বেশ কয়েকটি উনুন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। আগে প্রতিদিন চারটি উনুনে রান্না হলেও বর্তমানে দুটি উনুন চালিয়ে সীমিত পরিসরে ব্যবসা করতে হচ্ছে। গ্যাস না পাওয়ায় ফাস্টফুড তৈরির কাজও বন্ধ রাখতে হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ভবিষ্যতে লাকড়ির উনুন ব্যবহার করার কথাও ভাবছেন তিনি।

এ বিষয়ে কুমারঘাটের গ্যাস এজেন্সির ম্যানেজার জয়ন্ত চক্রবর্তী জানান, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গ্যাস সরবরাহে সমস্যা তৈরি হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী একবার সিলিন্ডার নেওয়ার ৪৫ দিন পর পুনরায় বুকিং করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাণিজ্যিক গ্যাস এবং পেট্রোল পাম্পে বিক্রির জন্য রাখা ৫ কেজির ছোট সিলিন্ডারের সরবরাহও আপাতত বন্ধ রয়েছে।

তিনি আরও জানান, ঘরোয়া সিলিন্ডারের ক্ষেত্রেও ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সাময়িকভাবে এই সংকট তৈরি হয়েছে এবং কিছুদিন পরিস্থিতি এমনই থাকতে পারে। তবে কয়েকদিনের মধ্যেই বুকিং সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande